ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। সেই বন্ধুত্বের জন্য ভারতকে মাশুল গুনতে হয়েছে। রুশ তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর জরিমানা সহ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এত কিছুর পরেও দিল্লি-মস্কো সম্পর্কে প্রভাব পড়েনি। উলটে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই অবস্থায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিল্লির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ককে তিনি সম্মান করেন। তবে মস্কোর সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি পুতিনকে জানিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ধন্যবাদ দিতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যস্ততার মাঝে বৈঠকের জন্য সময় দেওয়ায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। গত জুলাইতে আপনার সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিশেষ করে শিল্প-বাণিজ্যে। ইসলামাবাদের সঙ্গে মস্কোর বাণিজ্য সাম্প্রতিককালে একটা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই উন্নত হয়েছে। সেটা অনেকটাই সম্ভব হয়েছে আপনার জন্য। আপনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ইসলামাবাদের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আগের থেকে অনেকটা মজবুত করতে বদ্ধপরিকর। ব্যক্তিগতভাবে আমিও এই সম্পর্ককে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। ’
পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করে মস্কোর সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক ঠিক পথেই এগোচ্ছে। গত বছর জুলাইয়ের পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিকস্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পাকিস্তানে যেমন রুশ প্রতিনিধি এসেছে, পাকিস্তান থেকেও রাশিয়া সফর করেছে আমাদের দেশের কূটনীতিকরা। কৃষিক্ষেত্র, ইস্পাত শিল্প-সহ একাধিক শিল্পে কী করে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলা যায়, তা নিয়ে প্রতিনিধিত্বমূলক বৈঠকে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে।’
বৈঠকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও ওঠে। পুতিনকে শাহবাজ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ককে আমরা সম্মান করি। তবে আশা রাখি, আগামীদিনে ইসলামাবাদের সঙ্গে একই ধরনের সম্পর্কের তৈরি হবে। এই অঞ্চলে শান্তি-স্থিতিশীলতার স্বার্থেই সেই সম্পর্কের প্রয়োজন রয়েছে।’ রুশ সংবাদসংস্থা তাস অনুসারে, পুতিনকে একজন প্রগতিশীল নেতা জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ইচ্ছা প্রকাশ করি।’
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, সাংহাই শীর্ষ সম্মলেন মোদি-শি-পুতিন বৈঠক করলেও শাহবাজের সঙ্গে পুতিন বৈঠক করেননি। এমনকী পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেনি। সূত্রের খবর, পুতিনের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শাহবাজ নিজেই। তাই বক্তব্যের শুরুতেই পুতিনকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে ভোলেননি পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য শাহবাজের এত স্তবের কারণ দিল্লির সঙ্গে সে দেশের মাখো মাখো সম্পর্ক। আমেরিকা চড়া হারে শিল্প আরোপের পরেও দিল্লির অবস্থান বদল করেনি। জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়া থেকে তারা অশোধিত তেল কিনবে। দিল্লির এই আশ্বাসে মস্কো তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অনেকটাই হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতকে উপহার হিসেবে তুলে দেবে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র।












Discussion about this post