সরকারের মধ্যে কি এমন ভীতি কাজ করছে, যে আওয়ামী লীগ যে কোনও মুহূর্তে বাংলাদেশে ফিরতে পারে? এবং এই ভীতি বা ভয় গত এক বছরে যতটা না দেখা গিয়েছে, এই সেপ্টেম্বরে সেটা আরও বেশি করে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আদেও কি আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনও বাস্তবতা রয়েছে? কেন বারবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করতে হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে? কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ যে বড় হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। কারণ কিছুদিন আগেও ধানমন্ডি, বনানী এবং গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল লক্ষ্য করা গিয়েছে। যেখানে শুধুমাত্র হাসিনার দলের কর্মী, নেতারা ছিলেন না। ছিলেন সাধারণ মানুষও। আর সেটা দেখেই ভয় পেয়েছে অন্তবর্তী সরকার।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। এমনকি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও এমন ভীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের নেতারাও ভয় পাচ্ছেন, যে কোনও মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারে। এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতে পারে। কারণ তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছে বিভিন্ন সময়, নুরুল হক নূর মার খেয়েছে। এবার হয়তো আমাদের পালা। এরপরই তাৎপর্যপূর্ণভাবে লক্ষ্য করা গেল, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেছিলেন, পদে পদে বাধা আসবে, সবার মনে দ্বন্দ্ব তৈরির চেষ্টা হবে। প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করছেন রাজনৈতিক দলগুলিকে। তিনি বলেছেন, যেন প্রত্যেকেই আমরা স্থির থাকি, একে অপরকে সহযোগিতা করি। এমনকি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার কথাও তিনি বলেছেন ওই বৈঠকে। অন্যদিকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। যে কোনও বাধা এলেও এই সিদ্ধান্তের কোনও হেরফের হবে না।
তবে কি সরকার এটা মনে করছে, যে আওয়ামী লীগ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে বাধা দিতে পারে? তাতে আওয়ামী লীগের লাভ কি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বাধা দিয়ে আওয়ামী লীগের লাভ দুটি হতে পারে। একটি হল, তাদের দল যেহেতু নির্বাচনে প্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাই নির্বাচন করতে দেবে না। আর একটি হল, বাংলাদেশের মানুষকে বোঝানো। যে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে তারা এনেছে, সেই সরকার একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারছে না। ফলে আওয়ামী লীগকে প্রশংসা নেবে। তবে জোরাল কোনও কারণ উঠে আসছে না।
এদিকে আবার বাংলাদেশে রটানো হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নাকি ঢাকাতে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০ লক্ষ মানুষের সমাগম করাতে পারে। কিন্তু এটা কি আদেও বিশ্বাসযোগ্য? তার কারণ এত বড়, পুরোনো একটি রাজনৈতিক দলের স্ট্যাটেজি এত সহজে বাইরে চলে আসবে? ফলে কিসের ভিত্তিতে গোটা সোপ্টেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাস্তায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নামানো হয়েছে? বা বাংলাদেশের পুলিসের এত তৎপরতা কেন? সেটা স্পষ্ট নয়। এখন দেখার, সত্যিই শেখ হাসিনার দল কিছু করে কিনা? নাকি পুরোটাই গুজব বলে প্রমাণিত হয়!












Discussion about this post