চরম হতাশায় ভুগছে জামায়াত ইসলামি। যে দলটি কিছুদিন আগে প্রবল উৎসাহের সঙ্গে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি চলে এল এবং ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে বকলে দেশ শাসন করতে শুরু করল, সেই তারাই এখন নিরাশার সাগরে ডুবতে শুরু করেছে। জামায়াত মনে করেছিল, বাংলাদেশ এখন তাদের কাছে স্বর্গ। এই অন্তর্বর্তী সরকার যেমন চলছে চলুক। ঝোপ বুঝে কোপ মারবে। মানে, তারা একসময় দেশ শাসনের রিমোট হাতে নেবে।
দলের এক শীর্ষ নেতার মুখে কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, সেনাবাহিনীর ওপর বিশ্বাস রাখা খুব মুশকিল। যে কোনও মুহূর্তে তারা তাদের বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি দলের নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠক বসে। বৈঠক বসে ড. সফিক রহমানের বাড়িতে। সেখানে বহু বিষয়ে নেতারা মত বিনিময় করেন। বিষয়ের মধ্যে ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের ভূমিকা, আগামী জাতীয় নির্বাচনেই বা তারা কী ভূমিকা পালন করবে। তারা আগেই জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি আছে। তবে তার জন্য তারা শর্ত চাপিয়েছে। বলে দিয়েছে, জুলাই সনদকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এমনকী সংবিধানের মাথায় একে রাখতে হবে। দ্বিতীয়টি পিআর পদ্ধতি ভোট করাতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে যাঁরা অবগত, তারা জানেন দুটোর একটাও কার্যকর করা সম্ভব নয়। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায় না।
জামায়াতের লক্ষ্য কিন্তু অন্য। সূত্রের খবর, তারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে বদ্ধপরিকর। এমনিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে হাজারো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। সেনা প্রধান ওয়াকারের সঙ্গে এই নিয়ে তাঁর বৈঠক হয়েছে। ইউনূসের দাবি, নির্বাচনের ব্যাপারে বাহিনীর থেকেও আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে। যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে, সেনার সঙ্গে ইউনূসের সম্পর্কের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। ইউনূস এখন থেকে ভোটের ঢাক বাজাতে শুরু করেছেন। আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাংলাদেশ এখন বোঝা হয়ে উঠছে। ইউনূস চাইছেন, ঘাড় থেকে বোঝাটা ফেলে কোনওরকমে একটা সেফ প্যাসেজ দিয়ে পালিয়ে যেতে।
আসলে ইউনূস চেয়েছিলেন এবং স্বপ্ন দেখেছিলেন, মসনদে অন্তত পাঁচ বছর থাকতে পারলেই তাঁর চলে যাবে। এখন আর সেই ক্ষিদে আর নেই। স্বপ্নের নৌকা পদ্মার জলে ডুবেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান চাইছেন, বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে মানে মানে করে কেটে পড়া। এনসিপিরও এখন আর তেমন খিদে নেই। বিএনপির সঙ্গে হাত ধরাধরি করে দু থেকে তিনটি আসন পেলেই তাদের চলে যাবে।
এই অবস্থায় জামায়াত হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাদের স্বপ্নের নৌকা এখন এক জায়গায় পাক খেয়ে চলেছে। তারা দোষ চাপাচ্ছে ওয়াকারের ওপর। আগে তাদের মনে হয়েছিল এই ওয়াকার তাদের ‘আপনা আদমি’। ওয়াকারেরও মনে হয়েছিল জামাত তাদের আপনা আদমি। রাত কেটেছে, ঘুম ভেঙেছে। কেউ আর কারও আপনা আদমি নয়। ওয়াকার এখন উলটো করে নামতা পড়তে শুরু করেছেন। বুঝতে পেরেছেন, জামাত জিতলে তার হাতে পেন্সিল ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। তাই, ওয়াকার এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। শুধু কি ওয়াকার, আমেরিকাও বুঝতে পেরেছে, জামাত জিতলে আম আর ছালা দুটোই যাবে। তারাও এখন লাভ ক্ষতির হিসেব কষতে শুরু করেছে। জামায়াত মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, ইউনূস একটা বিশ্বাসঘাতক।












Discussion about this post