চিনের এসসিও সম্মেলনের পর থেকে ভারতের প্রতি রাশিয়ার আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে একে অপরের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। কিয়েভের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অতীতে তারা দিল্লির পাশে যেভাবে ছিল, আগামীদিনেও তারা সেইভাবেই থাকবে। একটা সম্মেলন বদলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির যাবতীয় সমীকরণ। কার্যত বিশ্ব এখন আড়াআড়িভাবে বিভিক্ত।
এই অবস্থায় ইরাক ও সৌদি আরব জানিয়ে দিল, তারা আর ভারতকে তেল বিক্রি করবে না। কারণ হিসেবে উঠে আসছে একটা আশঙ্কা। মানে ফেলো কড়ি মাখো তেল। সৌদি আরব এবং ইরাক আশঙ্কা করছে, ভারতকে তারা তেল বিক্রি করলেও ঠিক সময়ে তারা তাদের তেল বিক্রির টাকা নাও পেতে পারে। যদিও তাদের এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। তাদের মতে, এই দুই দেশ আসলে ভয় পেয়েছে। ভারতকে তেল বিক্রি করলে যদিও তাদের ওপর চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মনে রাখতে হবে, ইরাক এবং সৌদি কিন্তু ভারতকে অনেকদিন ধরেই তেল বিক্রি করে আসছে। ভারত কিন্তু রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে এই দুটি দেশের অপরিশোধিত তেল কেনার পক্ষপাতি। আসলে সৌদি আরব এবং ইরাক কিন্তু কার্যত ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হল।
সৌদি রাজনীতি বোঝা খুব জটিল। এটি ইসলামিক রাষ্ট্র। অথচ ইজরায়েল যখন প্যালেস্তাইনের ওপর দিনের পর দিন হামলা চালিয়ে এসেচে, সেই সময় সৌদি একটি শব্দও খরচ করেনি। ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির সংগঠন সৌদির বিরুদ্ধে একাধিকবার বিবৃতি দিয়েছে। প্যালেস্তাইন বনাম ইজরায়েলের লড়াই আর ভারত-রুশ সংঘাত কিন্তু সম্পূর্ণ। প্রশ্ন হল সৌদি আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে তারা তাদের মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে দূরত্ব তৈরি করছে না তো? ভারত কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে নানা বিষয়ে একধিকবার চুক্তি করেছে। আর সেই মিত্র দেশকে তারা তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ভারতের জন্য রয়েছে সুখবর। তারা দিল্লিকে আরও কয়েকটি এস ৪০০ ইউনিট তুলে দিতে চলেছে। তারা ভারতকে আরও দুটি ইউনিট তুলে দিতে রাজি হয়েছে। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, সৌদি এবং ইরাকের সঙ্গে যখন ভারতের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, সেই সময় দিল্লির পাশে এসে দাড়িয়েছে রাশিয়া। এস ৪০০ ইউনিট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এয়ার ট্রান্সপোর্ট কেরিয়ারও তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। মার্কিন অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে দিল্লি এখন রুশ অস্ত্রের দিকে ক্রমশ ঝুঁকতে শুরু করেছে। যা পরোক্ষভাবে ট্রাম্পকে বার্তা দিতে চাইছে। আমেরিকার ট্রান্সপোর্ট নির্ভরতা ক্রমশ পড়তির দিকে গড়াবে।
দিল্লি আসলে ওয়াশিংটনকে বকলমে বোঝাতে চেয়েছে, তোমাদের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করব। অথচ বন্ধু দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সামান্য কথা বললেই তোমরা গোঁসা ঘরে চলে যাও। দেওয়া হয় হুমকি। এটা চলতে পারে না। আমরা আমাদের বিকল্প হিসেবে রাশিয়াকে বেছে নিয়েছি।
অর্থাৎ আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যে সমীকরণ এতোদিন পর্যন্ত ছিল, সেটার এবার বদল ঘটতে চলেছে। অস্ত্র থেকে তেল – দিল্লির কাছে দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে মস্কো। মনে রাখতে হবে, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল সাপে নেউলে। আসলে ঘরোয়া রাজনীতি হোক বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, চিরকালের বন্ধু বলে যেমন কিছু হয় না, চিরকালের শত্রু বলে কিছু হয় না। হাওয়া যেদিকে ঘোরে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিও সে দিকে ঘুরে যায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post