চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সাক্ষী রইল এক বিরলতম ঘটনার। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করেন। মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় শি বলেন, বিশ্ব রাজনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভারত-চিন শুধুমাত্র দুই প্রাচীন সভ্যতাই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। গ্লোবাল সাউথেরও অংশ। তাঁর কথায়, দুই দেশের উচিত, একে অপরের জন্য ভালো বন্ধু হিসেবে থাকা। অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী। শিকে নমো বলেন, ‘ড্রাগন ও হাতির একত্রিত হওয়া উচিত।’ প্রায় একই কথা শোনা গেল মোদির গলাতেও। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সহযোগিতার সঙ্গে ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নতি করতে ভারত বদ্ধপরিকর।’
এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত আন্তর্জাতিকমহলের। আর বৈঠকের সময়টা বেশ লক্ষ্য করার মতো। ভারতের ওপর শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক ভারতের রফতানি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
এখন চিনের সঙ্গে ভারতের এই বন্ধুত্বের কী ধরনের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে, সেই প্রশ্নটা ঘোরাঘুরি করছে? মার্কিন রাজনীতিবিদদের সংখ্যাগরিষ্ঠই বলছেন, বাংলাদেশে এই পরিবর্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহেই। ইউনূস সরকারের পারিষদবর্গে এমন অনেকের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে, তা আমেরিকার স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই। অদৃশ্যভাবেই কিন্তু ঢাকা বেজিংয়ের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চিন ইতিমধ্যেই তাঁর থাবা বসিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে আগামীদিনে কারা ক্ষমতা দখল করবে – চিনপন্থী না ভারতপন্থী রাজনৈতিক দল?
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের দায়িত্ব চিনের হাতে তুলে দিয়েছে। ঢাকার ক্ষেত্রে বেজিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। তাদের আরও ইচ্ছা ক্ষমতায় বসুক বিএনপি। সেটা হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সামনের দিনগুলি হয়ে উঠবে অকাল বসন্ত। আমেরিকা সেই সুদিনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমেরিকা লাগাতার বাংলাদেশের ওপর নির্বাচনের ওপর চাপ দিচ্ছে। তারা চাইছে, সে দেশে এমন কেউ ক্ষমতায় আসুক, যারা তাদের স্বার্থ দেখবে। আর চিন সেটা বুঝে ফেলেছে। তাই, ঢাকার তাদের প্রতি গরজ যত না বেশি, তার থেকেও বেশি গরজ বেজিংয়ের। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে তারা উঠে পড়ে লেগেছে।
আর চিন চাইছে ঠিক এর উল্টোটা। বেজিং চাইছে, নির্বাচন পিছিয়ে যাক। দরকার হলে ভোট বানচাল হলেও তাদের আপত্তি নেই। মাঝখান থেকে চাপে পড়েছে ঢাকা। তাদের অবস্থা এখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি? এদিকে, নির্বাচন কমিশন ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। হাসিনার দলের কেউ যাতে প্রার্থী হতে না পারে, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কমিশনের তরফ থেকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য কিন্তু হাসিনা এবং তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে অনেকেই ফেরার। অনেকে আবার আত্মগোপন করে রয়েছেন। এই অবস্থায় চিন ও বাংলাদেশ কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে। এদিকে, দিল্লির সঙ্গেও বেজিংয়ে নৈকট্য বাড়ছে। যার কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের ওপর। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে একটি সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে। একদিকে, ভারত-চিন, অপর দিকে বাংলাদেশ-চিন। বেজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামীদিনে পরিস্থিতি পদ্মার জল কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।












Discussion about this post