বাংলাদেশ যে অশান্ত, সে দেশের মানুষ যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে চাপা অসন্তোষ রয়েছে। সেনার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায় নতুন করে বাংলাদেশের আকাশে ক্রমেই পুঞ্জিভূত হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের মেঘ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরে বা নভেম্বরের মধ্যেই। কারণ, হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে গিয়েছে।
সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস একাধিকবার বৈঠক করেন। বৈঠক হয়েছে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসনের সঙ্গে সেনা প্রধান ওয়াকারের। অপর দিকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস জানিয়েছেন, ভোট যাতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য তার তরফ থেকে যা যা পদক্ষেপ করার দরকার হবে, সেটা তিনি করবেন। সেনাবাহিনীও মুখে তাঁকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে আদৌ সুষ্ঠ এবং অবাধ নির্বাচন হবে তো? লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে একবারের জন্য ইউনূস বা তাঁর সরকারের কোনও প্রতিনিধিকে বৈঠক করতে বা কথা বলতে দেখা যায়নি। নানা বিধ ঘটনা প্রবাহের মাঝেই কিন্তু ঢাকায় শরতের আকাশে জমাট বাধছে গণঅভ্যুত্থানের মেঘ। প্রশ্ন উঠছে কেন?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কিছু নির্দেশিকা নিয়ে এসেছে। সেই নির্দেশিকার চারটি বিষয় বেশ লক্ষ্য করার মতো। (১) না ভোট, (২) প্রার্থীর স্বশরীরে হাজিরা, (৩) ভোট প্রতীক যাঁর থাকবে না, ভোটযুদ্ধে লড়াই করার কোনও সুযোগ তাঁর থাকছে না এবং (৪) জামানত ফি। এর মধ্যে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বাকি দুটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনী নির্ঘণ্টে আওয়ামী লিগ বেশ বিপদে।
প্রথমে আসা যাক জামানত ফি-য়ের বিষয়ে। আগে জামানত মূল্য ছিল ২০ হাজার টাকা (বাংলাদেশি টাকায়)। সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়, না ভোট। এতদিন পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহু প্রার্থী জয়ী হতেন। এবা করা হয়েছে নোটা। অর্থাৎ প্রার্থীর নিচে থাকবে না ভোট। যিনি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর স্বপক্ষে নিজের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক নয়, তিনি নোটা প্রয়োগ করবেন। এর আগে এই পদ্ধতি ছিল না। এবার আসা যাক কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এবার আর অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল করা যাবে না। প্রার্থীকে সশরীরে কমিশনের দফতরে এসে মনোনয়ন দাখিল করতে হবে। প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ থাকছে। আওয়ামী লিগের সমস্যা এখানেই। কমিশন এটাও জানিয়ে দিয়েছে, যাদের ফেরার ঘোষণা করা হয়েছে, তারা কোনওভাবেই প্রার্থী হতে পারবে না।
আওয়ামী লিগের অনেকেই বিদেশে রয়েছেন। হাসিনা,তাঁর কন্যা রেহানা, এমনকী দলের বহু হেভিওয়েট নেতা এই মুহূর্তে বিদেশে রয়েছেন। তারা ভোটে লড়তে চাইল, দেশে ফিরতে হবে। হাসিনা গোষ্ঠীর আশঙ্কা, তাঁর দলের নেতারা দেশে ফিরলেই ইউনূস সরকার তাদের গ্রেফতার করবে। গ্রেফতার করতে কোনও আইনি বাধা সরকারের সামনে নেই। ফেরার বা পলাতক দেশে ফিরলেই যে কোনও সরকার তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। এটাই ইউনূসের একটা চাল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচনী প্রতীক। যে সব নির্বাচনী প্রতীককে কমিশন বাতিল করেছে, সেই সব প্রতীকে কোনও প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। তবে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ রয়েছে। সরকারে যে থাকবে কমিশনকে তাঁর কথা শুনতে হবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় রয়েছেন ইউনূস। তাই, কমিশনকে তাঁর কথা মেনে চলতে হবে। কিন্তু ইউনূস কতদিন ক্ষমতায় থাকেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post