পিটার ডি হাসের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেতে চলেছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সেনেটে অনুমোদন দিলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন ব্রেন্ট। ভারতের ক্ষেত্রেও পালাবদল ঘটেছে। সাউথ ব্লকে হোয়াইট হাউস রাষ্ট্রদূত করে পাঠাচ্ছেন সার্জিও গোর। গোরের কাঁধে রয়েছে অতিরিক্ত দায়িত্ব। রাষ্ট্রদূতের কাজের পাশাপাশি তাকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দিকেও তাকে নজর রাখতে হবে। শুধু পাকিস্তানের জন্য থাকবে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দুটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম কেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? এর সঙ্গে কি চিন-রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক এবং ত্রিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে? লক্ষ্য করার মত বিষয় হল বাংলাদেশের দায়িত্ব আমেরিকা যাঁর হাতে তুলে দিয়েছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনারহিত। আগে ক্রিস্টেনসেকে আমেরিকা অন্য ভূমিকায় অন্য দেশে পাঠিয়েছিল। এমনকী বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাও হোয়াইট হাউজের এই আমলার রয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করার পিছনে কি অন্য অংক কাজ করছে।
একটু বিশ্লেষণ করা যাক। আগে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। হোয়াইট হাউজের এই আমলা ইউনূসের খুব প্রিয় পাত্র ছিলেন বলেই সকলে জানেন। যে কারণে বাংলাদেশে হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর বেশ কয়েকবার ঢাকায় তিনি গিয়েছিলেন বলে খবর। তবে দিল্লি-ওয়াশিংটন শুল্কযুদ্ধ এবং রাশিয়া-চিনের সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠতায় ট্রাম্পের সব হিসেবে উলটে গিয়েছে। সার্জিও গোরের সঙ্গে রাশিয়ার রক্তের টান, নারীর টান রয়েছে। তাঁকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দিল্লিতে পাঠিয়ে ডন আসলে দিল্লির মন ফিরে পেতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহলের একাংশ। গোরকে নিয়োগের সময় হোয়াইট হাউজ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বভার সামাল দেওয়ার পাশাপাশি গোর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব সামলাবেন। যার অর্থ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ব্যাপারে তিনি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব সামাল দেবেন। গোরকে নিয়োগ করে ট্রাম্প বেশ খুশি। গোর ডনের খুব কাছের লোক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, – ‘গোরের মতন আমার একজনকে প্রয়োজন ছিল, যার ওপর আমি ভরসা করতে পারি’।
আট মাস আগে বাংলাদেশে কোনও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিল না। ছিলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। হঠাৎ করে কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের জায়গায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করলেন? আসলে তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও সমাধান সূত্র খুঁজে পাচ্ছে না ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের দপ্তর। একটি হল রাখাইন করিডোর। দ্বিতীয়টি প্রতিরক্ষাচুক্তি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তিতে আগ্রহী বলে জানায়। কিন্তু এই পর্যন্ত। তৃতীয় হল প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য আদান প্রদান। হাসিনা সরকার আমেরিকাকে মুখের ওপর না বলে দেয়। তাতে রীতিমতো অসন্তুষ্ট হয় আমেরিকা। ক্ষমতা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যার সরে যাওয়ার পর আমেরিকা এই তিনটি চুক্তির ব্যাপারে অতি সক্রিয় হয়ে উঠলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। পিটার হাসের মতো দুঁদে আমলাকে পাঠিয়েও আমেরিকার লাভ হয়নি। তাই, হিসেব করেই ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ দেখলে চোখ চড়ক গাছে উঠবে। হোয়াইট হাইস বিশ্বাস রাখে, পিটার হাসকে দিয়ে যে কাজ হাসিল করা সম্ভব হয়নি, সেটা এই আমলাকে দিয়ে অনায়াসেই করা সম্ভব হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post