বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সম্প্রতি দলীয় এক সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। সেখানেই আওয়ামী লীগকে রাজপথে মিছিল করতে নির্দেশ দেওয়ায় সেনাপ্রধানকে দালাল বলে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতি এই মুহূর্তে উত্তাল। আর রাজনীতির এই ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। যে হেতু বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার কোনও অস্তিত্ব নেই। সে হেতু খালেদা জিয়ার দল ভাবতে শুরু করেছে, নির্বাচনে তাঁরাই বাজিমাত করবে। ফাঁকা মাঠে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি। তাই তাঁদের ভোট নিয়ে এত চাপাচাপি চলছিল।
কিন্তু ইউনূস সরকারের এক বছরের মাথায় এসে আচমকাই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে। সরকারিভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও রাজধানী ঢাকায় বিগত কয়েকদিন ধরে দলটি ঝটিকা মিছিল বের করছে। বনানী, গুলশন, উত্তরার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আওয়ামী লীগের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। আর এরপরই বাংলাদেশের জনগণের মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, কবে ফিরছেন শেখ হাসিনা। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে কেন রাজপথে আটকাচ্ছে না সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতেই বিস্ফোরক অভিযোগ করে বসলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দলীয় এক সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান যদি জগগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগের মতো ধ্বংসাত্মক শক্তিকে ঢাকার রাজপথে নামতে দেয় তবে ইতিহাস তাঁকে ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। যে দেশের সরকার দেশের মানুষকেই পেট্রলবোমায় পুড়িয়েছে, গুম, খুন করেছে। আজ আবার সেনাপ্রধানের নির্দেশেই রাজপথে নামতে দেওয়া হচ্ছে স্বৈরাচারি আওয়ামী লীগকে। এটা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, ওয়াকার উজ জামান সাহেব যদি আওয়ামী লীগের দালালি করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে সেই ভাবেই মনে রাখবেন। খালেদা জিয়ার এই হুঁশিয়ারিই যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর মুখে এই বক্তব্য আসার পরই বিএনপি নেতৃত্বও তাঁদের সুর চড়িয়েছে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীরও নেত্রীর সুরেই বলেন, এটা একমাত্র খালেদা জিয়ার বক্তব্য নয়, এটা বাংলাদেশের জনগণের কণ্ঠস্বর। আমরা সেনাবাহিনীকে সম্মান করি, কিন্তু সেনাপ্রধান যদি নিরপেক্ষ না থাকেন তাহলে জনগণ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবেন। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, সেনাপ্রধান কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন, রাজপথে গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করলে কারও বাঁধা দেওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তিগুলির মত, সেনাপ্রধান আসলে তাঁদের সুযোগ করে দিতেই এই কথা বলেছেন। দেখা যাচ্ছে, ওয়াকার উজ জামানের ওই মন্তব্যের পরই ঢাকার রাজপথে আওয়ামী লীগের মিছিলের সংখ্যা ও বহর বেড়েছে। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীকেও আওয়ামী লীগের মিছিল আটকাতে খুব একটা সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে না। তাই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সেনাপ্রধানকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। মুল অভিযোগ, ওয়াকার উজ জামান সুকৌশলে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছেন ঘুরপথে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post