বাংলাদেশ এখন মব সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু এই বাংলাদেশ আশা করেই কি বাংলাদেশের জনগণ গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন? গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রাজত্বকালের এক বছর পার করে এরকই বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। কারণ, বিগত এক বছরে অনেক কিছুই দেখেছেন, সহ্য করেছেন বাংলাদেশবাসী। যার মধ্যে অন্যতম হল মবের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মবের নামে তাণ্ডব, মবের নামে যা খুশি তাই করার ছাড়পত্র। মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি দাবি করেন, তিনি শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এক অন্য মাত্রা পেয়ে হয়ে উঠল মবের মূলুক। প্রশ্ন উঠছে, এত কিছু করেও মুহাম্মদ ইউনূস কিসের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছেন? কেনই বা তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে সময় লাগছে?
নোবেলজয়ী অর্থনীতির অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। তিনি ফ্রান্সের প্যারিস শহরে বসবাস করলেও আদতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়েই কাজ করেন বলে দাবি। তিনি মার্কিন ডিপ স্টেটের এক ডিপ অ্যাসেট। আর এই কারণেই ইউনূস সাহেবের বিশ্বজোড়া যোগাযোগ। সেটাকেই সরল বিশ্বাসে বাংলাদেশবাসী ভেবে নিয়েছিলেন, তিনি ওই যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে এবার বাংলাদেশকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি সোনার বাংলাদেশ বানানোর পরিবর্তে মবের মুলূক বানিয়ে দিলেন অচিরেই। আসলে মার্কিন ডিপ স্টেটের অর্থায়নে ও মদতেই বাংলাদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দানা বেধেছিল। গভীর এক ষড়যন্ত্র বা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় জোটের একটি বড় অংশ সরাতে চাইছিলেন শেখ হাসিনাকে। সেই ষড়যন্ত্রেই গদিচ্যুত হন শেখ হাসিনা। কারণ তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ দিতে অস্বীকার করেন। আর সেটা হাসিল করতেই হাসিনার পতন হল আর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এলেন বাংলাদেশে। কেন বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়তে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র? এই প্রশ্নের উত্তর এখন হয়তো অনেকেই জেনেছেন, তাও একবার বলে রাথি।
পৃথিবীর মানচিত্র দেখলেই বোঝা যাবে, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হল গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশপথ। অর্থাৎ, ভারত, চিন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া অথবা রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যের মূল পথ হল বঙ্গোপসাগর। কিন্তু এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনও বেস বা সামরিক ঘাঁটি নেই। তাঁরা বিগত কয়েক দশক ধরে ভারতের ওপরেই ভরসা করতো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দূরীকরণে। যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি সামরিক বেস ক্যাম্প তৈরি করতে চাইছে। কারণ, এই মুহূর্তে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হল ভারত ও চিন। এই দুটি দেশে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষের বাস এবং বিশ্বের পাঁচটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে দুটি। সেই কারণেই দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে বাংলাদেশের দিকে নজর দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ভেস্তে দিলেন ট্যারিফের গুঁতোয়। তাঁর ট্যারিফ যুদ্ধে বেসামাল হয়ে ভারত-চিন ও রাশিয়া একজোট হল। পাশাপাশি এই তিন মহাশক্তিধর দেশ একজোট হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাও রুখে দেওয়ার সংকল্প নিয়েছে। এই বার্তা পেয়েই ক্রমশ পিছু হটছে আমেরিকা। আর সেই সঙ্গে ক্রমশ বিপদে পড়ছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ডেকে নিয়ে আসা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও এবার একমত চিন, রাশিয়া ও ভারত। এবার তাঁর বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নেওয়ার পালা। আর এই খবর কানে যেতেই বাংলাদেশের মব সন্ত্রাসীরা পালানোর পথ খুঁজতে শুরু করেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post