সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের এখন বড় দুঃসময় চলছে। যাদের ভারী বুটের শব্দ কানে গেলে মানুষ দিনের বেলা আকাশে চাঁদ তারা দেখেন, সেই সেনাবাহিনীর রাতের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে মব কালচার। বাহিনীর তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে, আইন যেন কোনওভাবেই হাতে তুলে না নেওয়া হয়। কিন্তু দেখা গিয়েছে, আবদনে সাড়া দিতে নারাজ দেশবাসীর একাংশ। তারা সুসংহত উপায়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ করছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে। বাহিনী এই সব বরদাস্ত করবে না। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ করতে বাহিনী দ্বিধা করবে না।
বাহিনীর এই কড়া বার্তার পরেও কিন্তু মবের জুলুমবাজি বন্ধ তো হয়নি। উলটে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠছেন। ঘটনা হল নানা প্রান্ত থেকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করা হচ্ছে। বাহিনীর সাংবাদিক সম্মেলনে নানা বিষয় উঠে আসে। বাহিনীর তরফ থেকে এটাও বলা হয়েছে ডাকসুর নির্বাচনে তারা থাকবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযোদ্ধা এবং নেতাদের ওপর মবের জুলুমাবাজি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ডাকসুর নির্বাচনে বাহিনী নাক গলাচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, সেটা গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। সেনা চায়, ডাকসুর নির্বাচন হোক স্বচ্ছ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাহিনীর ভূমিকা কী হবে, সেটা নির্ধারণ করবে কমিশন।’
নুরাল পাগলার ঘটনায় বাহিনী তদন্ত করছে বলে সেনার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, বেআইনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। সাংবাদিক সম্মেলনে মব সন্ত্রাস সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সামরিক অপারেশন পরিদফতরের কর্নেল স্টাফ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছর ধরে ধৈর্য এবং পরিশ্রমের সঙ্গে সরকার ও জনগণের জন্য আমরা কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা বা রক্ষা করা শুধু সেনাবাহিনীর কাজ নয়। আমাদের ম্যাজেস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রেফতার, আটক ও হস্তান্তর করতে পারি। কোনও সাজা দিতে পারি না। ’
শফিকুল ইসলাম এও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব অংশীদারকে এক সঙ্গে কাজ করত হবে। এর মধ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে। একসঙ্গে কাজ করলে আগামীদিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।’ মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে কর্নেল স্টাফ বলেন, ‘মু্ক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি, শ্রদ্ধা করে অন্তরের অন্তস্থল থেকে এ ধরনের শ্রদ্ধা-সম্মান আগেও করেছি এখনও করছি, ভবিষ্যতেও করব।’
সেনাবাহিনীর এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে মবের জুলুমবাজি নিয়ে তারা রীতিমতো চাপে। বাহিনী কার্যত স্বীকার করে নিল যে মবের জুলুমবাজির ঘটনা ঘটছে। তাদের নিশানা হয়ে উঠছে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দেশবাসীর মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হবে, সেটা তারা সহজেই অনুমান করতে পেরেছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমনিতে অগ্নিগর্ভ। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তাদের নানা ধরনের কটু কথা শুনতে হচ্ছে। এই অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর মবের জুলুমবাজি ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালবে। তাই, পরিস্থিতি যে কোনও মূল্যে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। না হলে বাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষ এবার পথে নামবে। তাই, বাহিনী যেমন চাপে রয়েছে, তার থেকেও চূড়ান্ত মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনুসের।












Discussion about this post