বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সম্প্রতি চিন সফর সেরে ফিরলেন। জাপানি অগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি চিনে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে এক ফ্রেমে দেখা গিয়েছিল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট কিম জন উন। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা চলছে। যদিও বিজয় প্যারেড অনুষ্ঠানে এই তিন নেতার পিছনের সারিতে আরও কয়েকজন অতিথি ছিলেন। যেখানে ভিড়ের মাঝে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকেও দেখা গিয়েছে। একটি ছবি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য অভ্যাগতদের মাধে উঁকি মারছেন খলিলুর রহমান। কেউ কেউ বলছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মতো তাঁকেও পাত্তা দেয়নি বেজিং।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠছে, চিন সফর থেকে কি নিয়ে এলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমান? বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হোক বা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যিনিই বিদেশ সফরে যান না কেন বাংলাদেশের প্রেস উইং সেই সফর শেষে ফলাও করে প্রচার করতে শুরু করে। প্রেস সচিব সফিকুল আলম স্বয়ং সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন সেই সফর থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কি কি হল। অথচ চিনের বিজয় প্যারেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে যাওয়া খলিলুর রহমানের চিন সফর নিয়ে নিরব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সচিব এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী চেন ইয়িক্সিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর বেশি কিছু বলা হয়নি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের অন্দরে খবর, খলিলুর রহমান চিনে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি টার্গেট নিয়ে। তিনি এবং তাঁর টিম চেষ্টা করছিলেন বিজয় প্যারেডে উপস্থিত বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি বৈঠকও আয়োজন করতে পারেনি বাংলাদেশের কূটনৈতিকরা।
উল্লেখ্য, বেজিংয়ে বিজয় প্যারেড অনুষ্ঠানের ঠিক আগেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে ভারত, চিন এবং রাশিয়ার জোট আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিন শক্তিশালী দেশের নেতৃবৃন্দের গতিবিধি, আলোচনা এবং কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যম এবং পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সম্মেলনে কার্যত একা একা ঘুরছেন, তার সাথে কোনও বিশ্বনেতাই হাসিমুখে হাত মিলিয়েছেন এমন ছবি দেখা যায়নি। বরং মোদি ও পুতিনের কথপোকথনের সময় তাঁর হাস্যকর উপস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল তুলেছিল। পাত্তাহীন মনমরা অবস্থায় শাহবাজ শরিফের বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় একই অবস্থায় পড়ছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেখানে তাঁকে একেবারে পিছনের সারিতে দেখা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসসিও সম্মেলনের সমস্ত ফোকাস নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্য এবং তার প্রভাব নিয়ে চিনকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বেজিংও সেটা উপলব্ধি করেছে। সেই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে থাকা পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে কার্যত অবহেলাই করা হয়েছে চিনে। এটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আর সেই কারণেই শূন্য হাতে নীরবে চিন থেকে ফিরেছেন খলিলুর রহমান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post