ভয় পেয়েছেন ডঃ ইউনূস। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। এতদিন রাস্তাঘাট, ঘরের অন্দরে, অফিস-কাছারিতে যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বাংলাদেশের আম জনতা, এবার কবরেও শান্তি নেই। সম্প্রতি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল হক ওরফে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে মাঝ রাস্তায় জ্বালিয়ে দিয়েছিল তৌহিদী জনতার নামে একদল উন্মত্ত জনতা। যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি উত্তাল। নিহত নুরাল পাগলার জনৈক এক ভক্ত সোমবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন ও জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশদাতা মূল অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ মোল্লা-সহ মাত্র ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে মব সংস্কৃতি বাড়তে বাড়তে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বহু দেশ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। ফলে ভয় পেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ দাবি করছেন, ইউনূস সাহেবের ভয়ের কারণ অন্য। আসল কারণ হল আওয়ামী লীগের উত্থান।
বিগত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা-সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে আওয়ামী লীগের মিছিল ও ঝটিকা কর্মসূচি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ভয় কাটিয়ে “জয় বাংলা” স্লোগান তুলে ঢাকার রাজপথে মিছিল করছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা, আর সেই মিছিলে নিজেদের বাইক, রিক্সা, গাড়ি থামিয়ে সানন্দে যোগ দিচ্ছেন পথ চলতি মানুষ।
মিছিলের অ্যাম্বিয়েন্স ভিডিও দিও ৩০ সেকেন্ড মতো…..
শুরুটা হয়েছিল ছোট ছোট ঝটিকা মিছিল দিয়ে। দশ-পনেরো জনের একটা দল একটি বা দুটি ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল করছিলেন, বা কোথাও লিফলেট বিলি করছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থনে। পুলিশ, সেনাবাহিনীর তাড়া খেয়ে তাঁরা পালাতেন, আবার ধরাও পড়তেন। এরপর শুরু হয় ধড়পাকড়। তাতেও দমানো যাচ্ছে না আওয়ামী সমর্থকদের। ১০-১৫ জন থেকে ১০০-১৫০ জনের মিছিল। এখন তো হাজারের ওপর মানুষ আওয়ামী লীগের মিছিলে রীতিমতো স্লোগান তুলে যোগ দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষজনের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ছে। দমন-পীড়ন করে আটকানো যাচ্ছে না আওয়ামী লীগকে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন খুন, গুম, মব জাস্টিস, গণধোলাই, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে আওয়ামী সমর্থকদের পাশে এসে দাঁড়াতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও। তাই ভয়কে জয় করে তাঁরা মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেছেন। এটাই মুহাম্মদ ইউনূসের ভয়ের অন্যতম কারণ। যে ভয় দেখিয়ে এতদিন তিনি এবং তাঁর দোসররা সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রেখেছিলেন, এখন পাল্টা ভয়ের কবলে পড়ছেন তাঁরা। এটাই প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টাদের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। ফলে রণনীতি স্থির করতে মুহা্ম্মদ ইউনূস কখনও জামাত-এনসিপি-বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আবার কখনও উপদেষ্টামণ্ডলী ও গোয়েন্দা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বিশ্লেষকরা আগেই দাবি করেছিলেন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাটা বুমেরাং হতে পারে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এনসিপি-জামাত জোটের কাছে। এটা বিএনপিও বলেছিল একসময়। কার্যক্ষেত্রে তাই হচ্ছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটা কথাই ঘুরছে, ঘরে থেকে বা কবরেও ষেখানে নিরাপদে থাকা যাচ্ছে না। সেখানে ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র শেখ হাসিনাই পারেন বাংলাদেশবাসীকে উদ্ধার করতে। তাই আওয়ামী লীগের মিছিলে লোক বাড়ছে, আর আতঙ্ক বাড়ছে মুহাম্মদ ইউনূসদের মনে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post