হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা বড় বড় ব্যানার নিয়ে ঢাকার রাস্তায় আওয়ামী লীগের মিছিলের বহর বেড়েই চলেছে। রবিবার বাংলাদেশের ঢাকায় বিজয় সরণিতে মিছিলের ডাক দিয়েছিল আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি। প্রায় দেড়় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। মিছিল থেকে মুহাম্মদ ইউনূস বিরোধী স্লোগান ওঠেছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, মিছিলে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ঘটনা শুধু রবিবারের নয়, বিগত ১০-১২ দিন ধরে রাজধানী ঢাকা-সহ বাংলাদেশের প্রায় সমস্ত শহরে আওয়ামী লীগ বড় বড় মিছিল করছে। কিন্তু রবিবারের মিছিলটি ছিল ধারে ও ভারে যথেষ্টই বড়। যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ রবিবার রাতেই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং গোয়েন্দাবাহিনীর শীর্ষকর্তাদের ডেকেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা-সহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টাও। জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের এই ঘনঘন মিছিল এবং সেই মিছিলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। এও জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে প্রশ্নের মুখে পড়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী কোনও জবাব দিতে পারেননি, তিনি মাথা নিচু করে বসেছিলেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২২ মে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়েই নিন্দার ঝড় ওঠে। কিন্তু ইউনূস সাহেব আওয়ামী লীগকে কোনও জমি ছাড়তে নারাজ। এরপর তিনি গত আগস্টে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের কোনও সংবাদমাধ্যম ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে’ কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। হাসিনার একটি বক্তৃতা বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছিল। তার পরেই এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউনূস সরকার। এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল ইউনূসের সরকার। ফলে বাংলাদেশের মিডিয়া আর আওয়ামী লীগের কোনও কর্মসূচি, মিছিলের খবর প্রচার করছে না, অন্যদিকে বক্তব্য এবং শেখ হাসিনার কোনও বক্তব্য বা অডিও ক্লিপের প্রচার করছে না। ফলে এই মুহর্তে আওয়ামী লীগের মিছিল কতটা বড় ও ব্যাপক হচ্ছে, তা প্রচার করতে পারছে না বাংলাদেশের গণমাধ্যম। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াকে তো আর আটকাতে পারছেন না ইউনূসের সরকার। ফলে ফেসবুক, টিকটকে আওয়ামী লীগের মিছিলের ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আর তাতেই চেগে উঠছে বাংলাদেশের জনতা। এটাই মাথাব্যাথার কারণ মুহাম্মদ ইউনূস এবং হাসিনাবিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শেখ হাসিনা ক্ষুরধার মস্তিস্ক, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের একটা বড় অংশকে আবার নিজের দিকে টেনে এনেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে দায়মুক্তি নামে বিশেষ অনুষ্ঠান করছেন, তাতে তিনি মূলত হাজির করাচ্ছেন ইউনূসের পুলিশ প্রশাসন এবং দোসর রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা অত্যাচারিত এবং খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের লোকজনকে। তিনি তাঁদের সান্তনা দিচ্ছেন নিজের জীবনের ঘটনা মনে করিয়ে। এই আবেগী চালেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নতুন করে দলের ভিত পোক্ত করে ফেলেছেন। ফলে হাসিনাতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post