আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। তাঁর দফতর থেকে সফরসূচি ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে। মোদির সঙ্গে আসছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ সিং। এই পাঁচ হেভিওটের সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতুহল। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, মোদি আসবেন ১৫ সেপ্টেম্বর। আসার সম্ভাবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে। ইস্টার্ন কম্যান্ডের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই মোদি, রাজনাথ, দোভাল, অনিল চৌহান এবং রাজেশ সিংয়ের কলকাতা সফর। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবরা। খটকা এখানেই।
হাওয়া বলছে, কোনও একটি পরিকল্পনা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান এবং প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ সিংকে নিয়ে কলকাতায় আসছেন। আর আসছেন বিভিন্ন দফতরের সচিবরা। প্রশ্ন হল, বৈঠক সাধারণ হলে বিভিন্ন দফতরের সচিবরা কেন আসছেন। বিষয়টা যদি শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা দফতরের বৈঠক হত, তাহলে বিভিন্ন দফতরের সচিবদের আসার প্রশ্ন থাকত না। এখনও পর্যন্ত যা খবর, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির কোনও নেতার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর নেই। ফোর্ট উইলিয়ামের বৈঠক হবে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। জিওসি ইস্টার্ন কম্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে থাকবেন বিএসএফের ডিজিও।
একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ফোর্ট উইলিয়ামে বৈঠক। অথচ রাজ্য সরকারের কাউকে ডাকা হয়নি। যে রাজ্যের সীমান্ত নিয়ে আলোচনা সেই রাজ্যের কোনও আমলাকেও আমন্ত্রণ করা হয়নি। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে ইস্টার্ন কম্যান্ডের হাতে। এখানে বসে মোদি কিছু পরিকল্পনা নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতীক অতীতে দেখা গিয়েছে মোদির নেওয়া কোনও পরিকল্পনা বানচাল হয়নি। এই বৈঠকের পর কিন্তু বাংলাদেশে কিন্তু হৃদকম্পন শুরু হয়েছে।
প্রতিবেশী বাংলাদেশ এখনও শান্ত হয়নি। মাঝে-মধ্যে সেখানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চলছে। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় অশান্তির ঘটনা ঘটছে। নতুন করে উদ্বেগ বাড়িছে নেপাল। আচমকাই এই রাষ্ট্র তেতে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন ওলি। উল্লেখযোগ্যভাবে এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকছে না। শুধুমাত্র সেনাকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে কতটা সচেতন তা ফের স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পূর্বাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব পর্যন্ত সীমান্ত সুরক্ষা, প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্যে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই, পুজোর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর শুধু প্রশাসনিক দিক থেকে নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মোদি আসছেন এমন একটা সময়, যখন হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সাউথ ব্লক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। দিল্লি চাইছে, হাসিনা এবং তাঁর দল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ যাতে কোনওভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে সেখানকার পরিস্থিতি কোন দিকে মোর নেয়, সেদিকে তাকিয়ে সব পক্ষ। এই তপ্ত আবহে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে হাই ভোল্টেজ মিটিং করতে চলেছেন মোদি।












Discussion about this post