বাংলাদেশে যে চরম নৈরাজ্য চলছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নানা প্রান্ত থেকে তদারকি সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন পদক্ষেপ করে। কিন্তু সেটা কোনওভাবেই হয়ে উঠছে না। প্রশ্ন উঠছে, তদারকি সরকারের কী সদিচ্ছার অভাব রয়েছে? নাকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনওভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। না কি বাংলাদেশের মানুষ নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়েছে। দেশবাসী আর আইনের তোয়াক্কা করছে না। যে যেভাবে পারছে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। বাড়ছে খুন, ধর্ষণের ঘটনা। বাংলাদেশের এটাই এখন স্বাভাবিক চিত্র। সরকারিস্তরে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, যে বিগত সালের থেকে চলতি বছরে বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা। সংখ্যাটা রীতিমতো আশঙ্কাজনক। আট মাসে খুন হয়েছে ২৬১৬ জন। ১৫ হাজার শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিনকে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় প্রথম তাঁর মা তাহিনা বেগম (৫২) এবং সুমাইয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, শুধুমাত্র যশোর জেলায় এপ্রিল থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ৩৬ জন খুন হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার মতে, গত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চার মাসে বিভিন্ন থানায় ২৭টি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
যশোরের এম এম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনিত একদিনে হয়নি। এটা আদতে সামাজিক অবক্ষয়ের চরম রূপ। আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে ঢুকে পড়েছি। মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। তারা বিচার না পাওয়ায় আইনকে নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এই প্রবণতা আগামীদিনে আরও বাড়বে তা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে। ’
যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মী অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু বলেন, ‘গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরে নির্বিবাদে চলছে চাদাবাজি। হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তারা তাদের ভূমিকা পালন করছে না। বাংলাদেশের ছোট-বড়ো সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। অপরাধ এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি একসময় হাতে বাইরে চলে যাবে।’
মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ ১৩ মাসে খুনের হার বেশি। ২০২৩ য়ে খুনের সংখ্যা ছিল ৩০২৩টি। পরের বছর সেটা প্রায় সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি। ২০২৩ য়ে প্রায় ১৯ হাজারের মতো শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরের বছর সেই সংখ্যা কিছুটা কমলেও সেটা আহামরি কিছু নয়।
সরকার যখন স্বীকার করে নিয়েছে, দেশে খুন ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়েছে, মানুষ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দল প্রতিহিংসার রাজনীতিকে তাদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে, তখন সরকারে কর্তব্য হয়ে ওঠে এই ধরনের অপরাধে লাগাম টানা। অথচ সরকার এই সব ঘটনার পিছনে নানা যুক্তি তুলে ধরছে। বলছে, এই কারণে এটা হয়েছে। সে কারণে এটা হয়েছে। বেশি স্বাধীনতা ভোগ করার জন্য এটা হয়েছে। আগে সরকার এই সব ঘটনা ধামাচাপা দিতে। বর্তমানে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার থাকলেও তারা তথ্য কোনওরকমভাবে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে না বলেই প্রকৃত তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post