এর আগেও এই ছবি দেখা গিয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে আমেরিকা। ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠালো ট্রাম্প সরকার। এমনকি হাত পা বেঁধে শিকলবন্দি করে চার্টার্ড বোয়িং এ করে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সংখ্যাটা ১৮০ জন। তবে কি বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে ছেদ পড়ল? ভয়ানক চাপে পড়েছে ইউনূস সরকার।
জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত ১৮০ বাংলাদেশিকে ফ্লাইটে করে নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগেও একই ঘটনা ঘটেছে।
গত ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা আরেকটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। যার মধ্যে এক মহিলাও ছিলেন। সেই ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়েছিল বিশেষ সামরিক বিমান সি-১৭ দিয়ে। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের ব্র্যাক পরিবহন সহায়তা দেয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি বিভিন্ন সময় ১১৮ জন বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে করা পদক্ষেপ করছে ট্রাম্প সরকার। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেকে বলছেন, ভারতের পথেই হাঁটছে আমেরিকা। কারণ অবৈঠ অভিবাসন নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছে ভারতও। ভারেতর একাধিক রাজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভারত পুশ ব্যাক করতে বাংলাদেশের তরফে নানা মন্তব্য করা হয়েছিল।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এবার কেন মহম্মদ ইউনূস ট্রাম্পকে চিঠি দিচ্ছেন না? ঠিক যেমনটা দিয়েছিলেন ভারত সরকারকে। উল্লেখ্য, ভারতও অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর হয়েছে। একাধিক রাজ্যে চলছে অনুপ্রবেশমারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ। ইতিমধ্যেই বহু বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। আর এটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অনেক সময় তারা নিজের দেশের নাগরিককে গ্রহণ করতে চায়নি। উল্টে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। যদিও নয়া দিল্লি কোনও চিঠির উত্তর দেয়নি। স্পষ্ট করে জানিয়ে হয়েছে, অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত সচেষ্ট রয়েছে আর থাকবে। অন্যদিকে বিএসএফকে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অনুপ্রবেশকারী ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে, স্বাভাবিকভাবেই বিএসএফ আটকায়। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা বিএসএফের ওপর আক্রমণ চালায়। তখনই পাল্টা গুলি চালায় বিএসএফ। এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। আর এখানেই বিএসএফকে কাঠগড়ায় তুলছে তারা। প্রশ্ন ওঠে, বিজিবি কেন আটকায় না অনুপ্রবেশকারীদের? এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ, বিজিবি সাহায্য করছে তাদের।
তবে সেই একই কাজ যুক্তরাষ্ট্র করতেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা। অনেকে বলছেন, ভারতের দেখানো পথেই হাঁটল ট্রাম্পের দেশ।












Discussion about this post