বহুল কাঙ্খিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের শুরুটা উৎসবমুখর হলেও শেষটায় এসে ব্যাপক অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির থেকে অভিযোগ এসেছে ভোটে ব্যাপক কারচুপির। ভোটের দিন দুপুর থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। যদিও উপচার্য ভোটে কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভোট শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে (বাংলাদেশের সময়)। চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। প্রথম তিন ঘণ্টায় ভোট পড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ। এরপরেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলতে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিকদল। তাদের অভিযোগ, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে।
এস এম ফরাদের অভিযোগ, ‘ইউল্যাব স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টা পর্যন্ত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ইসলামি ছাত্র প্যানেলের একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অমর ২১ হলে আগে থেকেই ছাত্রদের সিল মারা ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে। ’ দুপুর দেড়টায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাসিরের সঙ্গে প্রশাসন বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন শিবিরের পক্ষে কাজ করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘যে নির্বাচন আশা করেছিলাম, সেই নির্বাচন হয়নি। সকাল থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। আগে থেকে পূরণ করা ব্যালট বাক্সে ভরে রাখা হয়েছে।’
এদিকে, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের থেকেও খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন ডাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। যারা এই কাজে লিপ্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের চিফ প্রসিকিউটার মহম্মদ তাজমুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন,‘ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ও বিজিত – সবাইকে অভিনন্দন। জয়-পরাজয় মুখ্য বিষয় নয়। ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা গণতন্ত্রের বিজয়, বর্যা বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশের বিজয়।’
ডাকসুর নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে যে সংঘাত অনিবার্য, ক্রমেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিপুল সংখ্যায় জামাত ও বিএনপির নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। নীলক্ষেত, কাটাবন সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে এই দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি পরিবেশকে থমথমে করে তুলেছে। তাদের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উপস্থিত রয়েছেন দুই তরফের নেতাকর্মীরা। তারা ফলাফলের অপেক্ষায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীজোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ এবং মৈনুদ্দিন খান। অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা এবং ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবদুল ইসলাম খান। জয়ীদের ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি আজকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাই যাঁরা ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তাদের।’ সাদিক কায়েম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আমাদের প্রত্যাশা। আমরা ক্যাম্পাসকে স্বপ্নের ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলব। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post