একটা টুইট। টুইটের পালটা টুইট। আর সেই টুইট সব হিসেব বদলে দিল। প্রথম টুইট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
বুধবার ভোরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ- এ দাবি করেন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। ওই পোস্টে তিনি মোদিকে খুব ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি নিশ্চিত, যে সফল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দুই দেশের কোনও অসুবিধে হবে না।
অথচ এই কদিন আগে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, আমরা ভারত ও রাশিয়াকে চিনের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি। ওই টুইট যে তাঁকে বিপদে ফেলে দিয়েছে, সেটা বুঝতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ট্রাম্প। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের টুইটের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও পালটা টুইট করেন। মোদির টুইট ‘দু দেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে আলোচনার মাধ্যমেই তা মিটে যাবে।’ শুধু তাই নয়, আলোচনার মাধ্যমেই ভারত-মার্কিং অংশীদারির পথও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মোদি। সেই পোস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
আসলে ভারত কৌশলে আমেরিকাকে মাথা নত করতে বাধ্য করেছে। এটা আমেরিকার কাছে শিক্ষনীয় হয়ে থাকবে।
অথচ এই ট্রাম্পের গলায় কয়েকদিন আগেও শোনা গিয়েছিল ভারত-বিরোধী কথাবার্তা। ভারতকে নিয়ে করেছিলেন ভবিষ্যদ্বাণী। বলেছিলেন, শেষটা একেবারেই ভালো হবে না। অর্থাৎ ভারত এইভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে রুখে দাড়ালে ফল ভালো হবে না। এটা ভবিষ্যদ্বাণী না বলে হুমকি বলাই ভালো। সেই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের ভোল বদলে গেল।
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর বসেছে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, বাণিজ্যচুক্তির কোনও অগ্রগতি না হলে শুল্ক নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনও আলোচনা করবেন না। কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় ভারতও। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এখন ঠাণ্ডাঘরে চলে গিয়েছে। ট্রাম্প-মোদির বন্ধুত্বে ইতি। এই পরিস্থিতিতে মোদির চিন সফর জল্পনাকে আরও আরও বাড়িয়ে তোলে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। এমন তপ্ত আবহে ট্রাম্পের টুইট নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
আসলে ট্রাম্প ঘরে বাইরে প্রবল চাপে। তাঁর শুল্কনীতির তুমুল বিরোধিতা করছে দেশবাসী। মার্কিন একটি আদালত জানিয়ে দিয়েছে, শুল্কনীতি অবৈধ। এভাবে একতরফা কোনও দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা যায় না। মার্কিন নাগরিকরা বলছেন, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত করে কেন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভেস্তে দিলেন? স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের কাছে একটাই রাস্তা খোলা ছিল। আর তা হল পিচকে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। তাই, বাধ্য হয়ে তাঁকে টুইট করতে হয়েছে। ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন বুঝে গিয়েছে কোনও অবস্থাতেই ভারতকে চাপে রাখা যাবে না। কারণ, ভারতের কাছে এখন বিকল্প হিসেবে কয়েকটি দেশ রয়েছে। তাদের জন্য দিল্লি তাদের বাজার খুলে দিলে, তারাও তাদের বাজার ভারতের জন্য খুলে দেবে। তাতে লোকসান হবে আমেরিকার। কে আর কালিদাস হতে চায়? মানে, যে ডালে বসে রয়েছেন, সেই ডাল কাটা মানে মুর্খামি। এমন মুর্খামির মতো কাজ করার থেকে একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বললে যদি পরিস্থিতি বদলে যায়, তাতে আপত্তি কোথায়। তাই, টুইট।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post