বাংলাদেশে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে (ইউনুসের ঘোষণা মত ভোট ফেব্রুয়ারিতে) ততই বিএনপি-আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। বিএনপি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের যে সব নেতা দেশের বাইরে রয়েছেন (মানে দিল্লিতে), তারা দেশকে অস্থির করে তোলার ষড়যন্ত্রে মেতেছেন। ফেব্রুয়ারির ভোট বানচাল করার জন্য মরীয়া হয়ে উঠেছেন।
দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা জাইনুল আবেদিন ফারুকি জানিয়েছেন, ‘দিল্লিতে থাকা কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষ হাত মিলিয়েছেন। তাঁরা চাইছেন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করে দিতে। পিছন থেকে মদত দিচ্ছে দিল্লি। তদারকি সরকার চাইছে নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচনের পক্ষে বিএনপি এবং তাদের সব মিত্র দল। আর আওয়ামী লীগ চাইছে দেশে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হোক যাতে নির্বাচন কোনওভাবেই হতে না পারে।’
বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের ব্যাপারে হাসিনার প্রথম থেকেই অ্যালার্জি ছিল। তবে দেশ ছাড়ার পর থেকে জিয়া বা তারেককে নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। আপাততদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল, তারা বিএনপির সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসতে চায়।
কিন্তু হাল আমলে যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের ছোট থেকে বড় নেতা সকলেই বিএনপির নেতাদের নিশানা করা একের পর এক মন্তব্য করে চলেছেন। আগামীতে বিএনপি তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে, তা সহজেই অনুমেয়। মূল বিষয় হল, বাংলাদেশে রাজনীতিতে বেশ কয়েকটি দাবার চাল রয়েছে। এখানে অসম্ভব ঘটনাও ঘটতে পারে। ১৯৮৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনীতির যে মেরুকরণ হয়েছে, সেগুলি অন্য কোনও দেশে সম্ভব নয়। ১৯৮৬ তে এরশাদ জমানাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামাতের সঙ্গে একটা দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল। আবার সেই সম্পর্ক ১৯৯১ সালে ইতি ঘটে। জামাতের সঙ্গে বিএনপির নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। ১৯৮৮ সালে জামাতের সঙ্গে জাতীয় পার্টির একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জামাতের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। বিএনপির ওপর ভর করে দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছে জামাত। আজ তারা একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, বিএনপি বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছে। জামাতের সঙ্গে করেছে। এমনকী জাতীয় পার্টির সঙ্গেও একটা সম্পর্কে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ইতিহাসের বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে আমরা দেখেছি বিএনপির সঙ্গে জামাতের একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। দুই দলের শীর্ষনেতাদের একাধিকবার বৈঠকে দেখা গিয়েছে।
এই সব ঘটনার নিরিখে এটা বলা যেতে পারে বা এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে, আগামীদিনে এমন ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না। আর রাজনীতিতে চিরবন্ধু বা চিরশত্রু বলেও কিছু হয় না। একসময় এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীকালে সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কয়েকবছর বাদে আবার তারা নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পরবর্তীকালে জাতীয় পার্টিকে একটা গৃহপালিত পশুতে পরিণত করেন হাসিনা। এখন জাতীয় পার্টির কোনও অস্তিত্ব নেই। আছে কাগজে কলমে আর কয়েকজনের হৃদয়ে। যে দলটি একসময় অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল, সেই দল এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা এসেছেন বা আছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই কিন্তু মুজিবরের সমালোচক ছিল। এখন তারা কিন্তু আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post