ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে অতীতে কখনও জয়ের কাছাকাছি যাওয়া, এমনকী প্রতিদ্বন্দ্বিতাতে আসতে পারেনি ইসলামি ছাত্র শিবির। জামায়াতে ইসলামীর এই সহযোগী সংগঠনটি এবার বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। তাদের সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীদল বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদলের ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাদের সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর। সরকারি নিষেধ উপেক্ষা করে তারা কোথাও সভা-সমাবেশ করলে পুলিশ সেখান থেকে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। মিথ্যে মামলায় তাদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই রকম এক ভয়ভীতির পরিবেশে বিপুল সংখ্যায় ভোট পেয়ছে ইসলামি ছাত্র শিবির। একসময় ডাকসুতে দাপিয়ে রাজত্ব করেছে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদল।
তদারকি সরকার ঘোষণা করেছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশে ভোট হবে। তার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন ছিল সেমিফাইনাল ম্যাচ। সকলেই তাকিয়ে ছিল ভোটের ফলাফলের দিকে। দেশবাসীর একাংশ ধরে নিয়েছিল ছাত্র ভোটে ছাত্রদল একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করবে। লড়াই মূলত হয়েছিল জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন এবং বিএনপির ছাত্র সংগঠনের মধ্যে। ভোটে দেখা গেল, বিপুল ভোট পেয়েছে ইসলামি ছাত্র শিবির। ছাত্র সংসদ ভোটে ছিল না আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগ। ফলে, বিএনপির ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার কথা ছিল। কারণ, বাংলাদেশে তারাই এখন সক্রিয় রাজনৈতিক দল।
কিন্তু খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে ইসলামি ছাত্র শিবির। ভোটের ফলাফল দেখে হয়তো অনেকেই বিস্মিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে তারা ৯টি তাদের অনকূলে গিয়েছে। এই ভোট হল ছয় বছর বাদে। শেষবার বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল ছাত্র লিগ। কিন্তু এবার তাদের ওপর তদারকি সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা ভোটে অংশ নিতে পারেনি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে ইসলামি ছাত্র শিবির। ডাকসুতে এই নির্বাচনী ফলাফল অনেকটাই ব্যতিক্রমী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ছাত্র শিবিরের একটা সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। ফলে, সেখানে নির্বাচন হলে ফল তাদের অনুকূলেই যাবে। সে দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু ইসলামি ছাত্র শিবিরের সে অর্থে সাংগঠনিক শক্তি নেই। সেটা না থাকার পরেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ফলাফল শুধু নজরকাড়াই নয়, বস্তুত মিডিয়ার সব আলো তারা শুষে নিয়েছে। কী করে এটা সম্ভব হল, তা নিয়ে বাংলাদেশজুড়ে চলছে আলোচনা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি হন উপাচার্যরা। সহসভাপতি , সাধারণ সম্পাদক হন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। ডাকসুর ভিপি হওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে পালাবদলের সূচনা করল বলে মনে করছে তথ্যভিজ্ঞমহল। ময়নাতদন্ত করে যে বিষয়গুলি উঠে আসছে তার মধ্যে রয়েছে নতুন ভোটার। এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান। ইসলামি ছাত্র শিবির বোঝাতে পেরেছে দেশের রাজনীতিতে পালাবদলের পিছনে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। তবে প্রকাশ্যে নয়, আড়াল থেকে। তারা সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে। সামনের সারিতে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, সার্জিস আলমরা। যদিও ছাত্রদলের দাবি, তারাও আন্দোলনে অংশ নেয়। তাদেরও অনেক নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসগঠনের দিনের পর দাদাগিরি, সিন্ডিকেট রাজ, চাঁদাবাজি সহ একের পর এক দুর্নীতিতে পড়ুয়ারা তিতিবিরক্ত। তারা একটি পরিবর্তন চেয়েছিল। আর সেটা বুঝতে পারে ইসলামি ছাত্রশিবির। তাই, তারা ঘুঁটিও সাজিয়েছিল সেরকম করেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post