এমনিতেই ইউনূসের শনির দশা চলছে। যাকে বলে ল্যাজেগোবরে অবস্থা। এবার তাঁর মুখে গোবর লেপে দিয়েছেন তাঁরই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুজো নিয়ে একটি বৈঠকে তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা পুজোমণ্ডপ পর্যবেক্ষণে থাকবে। তদারকি সরকারের তরফ থেকে পর্যাপ্ত আনসার নিয়োগ করা হবে। পুজো উপলক্ষ্যে আশেপাশে যেখানে মেলা বসে, সেখানে মদ গাঁজার আসর বসে। এবার আর মেলায় এসব হবে না। গাঁজা ও মদের আসর বসানো যাবে না। ’
দুর্গাপুজোয় মদ-গাঁজার আসর বসার দাবি করলেও পুজোয় বাধা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তাঁর দাবি, ‘এবার পুজো আয়জন কমিটি কোনও ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। গতবার শান্তিপূর্ণভাবে পুজো উদযাপন করা হয়েছিল। এবার আরও শান্তিপূর্ণভাবে পুজো উদযাপন করা হবে।’
জাহাঙ্গিরের এই মন্তব্য শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দুরা তো বটেই, বাংলাদেশের সুশীল সমাজ এই বক্তব্যের তুমুল বিরোধিতা করেছে। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইউনূস সরকার হিন্দু বিরোধী। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের টার্গেট করা হয়েছে। তদারকি সরকারের নিশায় সে দেশের সংখ্যালঘুরা। দিন-দুপুরে হিন্দুদের বা়ডি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভেঙে দেওয়া হচ্ছে তাদের মন্দির। অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে তারা ভারতে আসতে শুরু করেছেন। সেই ভয়াবহ ছবি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। এই সব ঘটনার জন্য ইউনুস সরকারকে একবারের জন্য আফশোস করতে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের দুর্গোপুজো নিয়ে বিধিনিষেধ জারি করল ইউনূস সরকার। সন্ধ্যে ৭টার মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন কর্মসূচি সেরে ফেলতে হবে। ২৪ ঘণ্টার জন্য পুজো মণ্ডপে চলবে নজরদারি। সরকারের তরফ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে আনসার। তারাও ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে একটি অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। যদি উৎসব চলাকালীন কোনও ঘটনা ঘটে, তাহলে সেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করবে এই অ্যাপস। পাশাপাশি সমস্যার সমাধানের রাস্তা বেরিয়ে আসবে। পুজোর সময় যে মেলা বসে, সেখানে চলে মদ গাজার আসর। এবারে আর কোনওভাবেই মেলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ছোট-খাটো দু-একটা দোকান বসতে পারে। তবে এর জন্য পুজো কমিটির থেকে পারমিশন নিতে হবে।’ পুজোয় সব বাহিনী থাকবে। তবে মণ্ডপের দায়িত্বে থাকবে বিজিবি। আর আনসার থাকবে সব জায়গায়।
নাগরিক সমাজের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্য কেবল একটি সুপ্রাচীন, সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবের ভাবগাম্ভীর্য এবং পবিত্রতাকে শুধু ক্ষুণ্ণ করেনি, বরং শিশু, নতুন প্রজন্ম এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গোপুজোকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত করে এক বৈষম্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছেন। এটি সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাতের পাশাপাশি বাংলাদেশে দীর্ঘকালীন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অবিলম্বে সাম্প্রদায়িক উপদেষ্টাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
বিবৃতিতে সই করেছেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, মানবিধাকার কর্মী, আমিরুল রসুল, আদিবাসী অধিকারকর্মী হানা শামস আহমেদ প্রমুখ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post