‘কি মুশকিল! ছিল বেড়াল, হয়ে গেল একটা রুমাল।’
বা ‘ছিল একটা ডিম। হয়ে গেল দিব্যি একটা প্যাঁকপেঁকে হাস’ নেপালের অস্থির অবস্থার প্রেক্ষিতে সুকুমার রায়ের হযবরল –য়ের বিখ্যাত এই উক্তির যে কোনও একটা প্রযোজ্য হতেই পারে।
একবার তাকিয়ে দেখা যাক পশ্চিমের দিকে। ডোনাল্ড ঘন ঘন পাল্টি খাচ্ছেন। ভারতের ওপর চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছেন। তা নিয়ে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের যখন তুমুল বাকযুদ্ধ সেই সময় ট্রাম্প বলছেন, দিল্লির সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা চলছে। সমস্যা মিটে যাবে। এবার ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের দিকে তাকিয়ে দেখা যাক। একবার তারা ভারতে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। আবার তারা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে। তাদের এই ঘন ঘন পাল্টি খাওয়ায় গিরগিটিও লজ্জা পাচ্ছে। গিরগিটিও এত ঘন ঘন রং বদলায় না।
গতকাল নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গোপন আস্তানা থেকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি যদি লিপুলেখ নিয়ে প্রশ্ন না তুলতাম, অযোধ্য ও দেবতা রাম নিয়ে কথা না বলতাম, তাহলে আমি হয়তো ক্ষমতায় থাকতাম। আমি ক্ষমতা হারিয়েছি। কারণ, আমি অযোধ্যায় দেবতা রামের জন্ম হয়েছে এই দাবির বিরোধিতা করেছিলাম।’
২০২০ সালের জুলাইয়ে কেপি শর্মা অলি বলেছিলেন, ‘দেবতা রামের জন্ম ভারতে নয়, নেপালে। রামের অযোধ্যা রাজ্য নেপালের পূর্ব বীরগঞ্জে অবস্থিত। ভারতে আরও একটি ভূয়ো অযোধ্যা তৈরি হয়েছে। আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে যে সীতা রামকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু রাম ভারতীয় নয়, নেপালি ছিলেন।’
ওলিকে এও বলতে শোনা যায়, ‘রাম কীভাবে ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে নেপালের জনকপুরে সীতাকে বিয়ে করতে এসেছিলেন। প্রাচীন আমলে দূরের স্থানে বিয়ের প্রচলন ছিল না। ওই সময় কোনও ফোনও ছিল না। তাহলে তারা কীভাবে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রাচীন আমলে আশপাশের রাজ্যগুলির বিয়ে হত। এত দূর গিয়ে কেউ বিয়ে করত না।’
এই বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে ওলিকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তখন একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই মন্তব্যের জন্য ওলিকে না চরম মাশুল দিতে হয়।
ওলি যেদিন রামকে নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য খেদোক্তি করেন, সেদিন নেপালের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকির মুখে শোনা গেল ভারতের প্রশংসা। তিনি বলেন, ‘ভারত নেপালকে সব সময় সাহায্য করেছে। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। কিন্তু হিন্দিতে একটি প্রবাদ আছে, রান্নাঘরে একসঙ্গে বাসনপত্র রাখলে কিছু শব্দ হবে। ’
যে নেপাল একসময় কথায় কথায় ভারতের প্রশংসা করত, সেই নেপালের গলায় শোনা গেল ভারতের প্রশংসা। সেই গিরগিটির রং বদলে ফেলার গল্প। নেপালের ভাবী প্রধানমন্ত্রী শুধু দিল্লির প্রশংসা করেনি, দিল্লির সাহায্য চেয়েছে। দিল্লির পাশে থাকতে চাইছে। এই ভোলবদল হয়েছে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, নেপালের ভাবী প্রধানমন্ত্রী আচমকাই ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন কেন? এর কারণ একটাই। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনীতিতে ভারত ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিবেশি রাষ্ট্র চিনের সঙ্গে এখন তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত হার্দিক। ওদিকে, বাংলাদেশে হাসিনা জমানা ফিরে এলে সে দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির সঙ্গে দোস্তির বদলে কুস্তি করলে আখেরে ক্ষতি তাদেরই হবে। তাই, খাল কেটে কুমীর আনার মতো বোকামি করতে চাইছে না সুশীলা।












Discussion about this post