নেপালে ঘটেছে পালাবদল। পালাবদল ঘটেছে বাংলাদেশেও। নেপালের ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনার অমিলের থেকে মিল বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যদি এটা ধরে নেওয়া হয় যে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জনমানসে একটা ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভের জন্যই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সরে যেতে হয়েছে। তাহলে এটাও বলতে হবে, সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে আমেরিকা। নেপালের ক্ষেত্রেও কথাটা প্রযোজ্য। শান্ত একটা দেশ আচমকা কী করে তেতে উঠল? কী করে একটা দেশ হঠাৎ বিক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করল? কে কলকাঠি নাড়ল?
অনেকে সন্দেহ করছে চিনকে। কিন্তু চিন কখনই চাইবে না নেপালকে অস্থিতিশীল করে তুলতে। এর প্রথম কারণ, কেপি শর্মা ওলি চিনের খুব কাছের লোক। তবে ভারত থেকে দূরে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর পরে ওলি চিন সফর করেছিলেন। তাদের ওয়ান চায়না নীতিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছিলেন। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করান। চিনের থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন। নেপাল এখন বকলমে দ্বিতীয় চিন হয়ে উঠেছে।
এবার আসা যাক জ্ঞানেন্দ্রর প্রসঙ্গে। তিনি মনে প্রাণে চাইছেন নেপাল একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। আর তিনি চাইছেন সিংহাসন দখল করতে। এই বছর গোড়ার দিকে নেপালে একটা আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ, ভারত সমর্থন দেয়। মূল মাথা ধরা পড়ে অসমে। গ্রেফতার করে নেপাল পুলিশ। ভারত অনুমতি না দিলে নেপাল পুলিশের অসমে আসা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া ভারতের মতো একটি বৃহৎ গণন্ত্রিক রাষ্ট্র কোনওভাবেই রাজতন্ত্রকে সমর্থন করতে পারে না।
তাহলে কী পাকিস্তান? ২০০৮ সাল থেকেই সে দেশের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ভারতে নানা ভাবে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাক দূতাবাসের কয়কেজন কর্তা। এর পর রয়েছে সিমকার্ড সাপ্লাইয়ের চক্র। আইএসআই গোপন গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। নেপাল সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সুনীল বাহাদূর থাপা চলতি বছরের জুলাইতে কাঠমাণ্ডুতে একটি সেমিনারে স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর এবং জইস মহম্মদ ভারতের জন্য হুমকি ও নেপালকে তারা তাদের ট্রাঞ্জিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। আইএসআই নেপালে তাদের পায়ের জমি শক্ত করছে। সুতরাং, পাকিস্তান যে নেপাল অস্থির করতে চাইবে না, সেটা স্পষ্ট।
ওলি যে সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, সেগুলি সবই আমেরিকার। ওলি চাইছিলেন, সেই সব অ্যাপের পরিবর্তে নেপালের দরজা খুলে দেওয়া হোক চিনের জন্য। সেটাই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এল। এছাড়া বিআরআই নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সংঘাত ছিল। যদিও নেপালের গোয়েন্দা সংস্থা আমেরিকার হাত দেখছে না। তবে ডিপ স্টেটের নাম চলছে।
রইল বাকি ভারত। ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন কেপি শর্মা ওলি। কারণগুলিও তিনি বলেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ভারতের নাম না করেও যা বলেন, তাতে বুঝতে অসুবিধে হয় না। যে তিনি ভারতকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে দাবি করেছেন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে তাঁর বিরোধের কথা। ওলি বর্তমানে কাঠমাণ্ডুর কাছে একটি সেনা ছাউনিতে রয়েছেন। তাহলে কী ভারত দায়ী? ভারত এর দায় নেবে না। কোনও দেশ নেয় না। তবে সুশীলা কার্কি প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের সুবিধে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post