সদ্য সদ্য পাকিস্তানে একটা ভয়াবহ বন্যা হয়ে গেল। দেশের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন ফিল্ড মার্শাল সাইদ অসীম মুনির। শনিবার তিনি গিয়েছিলেন কাসুর। মুলতানের জালালপুর পিরওয়ালের একটি ত্রাণ শিবিরে যান। কথা বলেন সেখানে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের সঙ্গে। বন্যা বিধ্বস্ত একটি দেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। পাকিস্তানের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা। তবে ত্রাণ দিয়ে নয়, অস্ত্র দিয়ে।
সে বিষয়ে যাওয়ার আগে একবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে দেখা যাক। কিছুদিন আগে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভারত আমেরিকার বন্ধু দেশ। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। আবার উলটোদিকে ট্রাম্প ইউরোপের শক্তিধর ১০টি দেশকে বলছে, ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে।
পাকিস্তানকে নিয়েও তাঁর দ্বিচারিতা আরও একবার প্রকাশ্য এসেছে। বন্যা বিধ্বস্ত দেশটিকে তারা নাকি ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সাহায্যে করেছে। এটা যে আদৌ সত্য নয়, সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সে দেশে পাঠানো হয়েছে চার থেকে পাঁচটি সি সেভেন্টিন গ্লোবমাস্টার বিমান। পাকিস্তানের যে সংখ্যক মানুষ বন্যায় বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই সংখ্যক মানুষের ত্রাণের জন্য একটা সি সেভেন্টিন গ্লোবমাস্টার বিমান যথেষ্ট। আর তার জায়গায় পাঠানো হল চার থেকে পাঁচটি সি সেভেন্টিন গ্লোবমাস্টার বিমান। তাছাড়া ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর কোনও একজন মন্ত্রীকে পাঠান। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে দেখা গেল সেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হলেন বাহিনীর পদস্থকর্তারা। ত্রাণই যদি আসবে, তাহলে সেনাকর্তারা সেখানে যাবেন কেন? সি সেভেন্টিন গ্লোবমাস্টার বিমান নেমেছে নুর খান এয়ারবেসে। এই সেনাছাউনি ধ্বংস করেছিল ভারত। পাকিস্তান আবার সেই সেনাছাউনি নতুন করে তৈরি করে।
বিমানের অবতরণ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, এই বিমানগুলিতে ত্রাণ এসেছে। পাক সেনার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ট্রাম্প প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো হয়। সেখানে ত্রাণের খতিয়ানও দেওয়া হয়েছে। এখান থেকেই সন্দেহ শুরু। পাকিস্তান যে পরিমাণ ত্রাণ এসেছে বলে দাবি করছে, তার জন্য একটি মাত্র গ্লোবমাস্টার যথেষ্ঠ। তাহলে বাকিগুলিতে করে কী এল? আরও বড় প্রশ্ন, মার্কিন বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাই বা এলেন কেন?
আমেরিকার দুটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই সব বিমানে ত্রাণ নয়, পাঠানো হয়েছে ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র। মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যান্টি মিসাইল সিস্টেম যা আসলে যাওয়ার কথা ছিল ইউক্রেনে। কিন্তু পাকিস্তান বেশি দর দিতে রাজি হওয়ায় ট্রাম্প সরাসরি অস্ত্রগুলি পাকিস্তানে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই অস্ত্র বালোচিস্তানে নাকি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে – কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন একটি খেলা শুরু করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক সতর্ক রয়েছে। তারা পালটা পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
একটা বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমেরিকা চাইছে, যেভাবে হোক ভারতে একটা অস্থিরতা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছেন। এবার পালা ভারতের। বাংলাদেশে ইউনূস সরকার যা কিছু করছেন, সেটা মার্কিন নির্দেশ মেনেই। সেটা না করলে তার আর বেশিদিন গদিতে থাকা সম্ভব হবে না। আমেরিকাই তাকে গদি থেকে নামিয়ে দেবে। কে আর খাল কেটে কুমীর আনতে চায়?












Discussion about this post