বাংলাদেশে দাবার পাশা উলটে দেওয়া হয়েছে। তারপর নেপালে। দুটি দেশে ঘটেছে পালাবদল। পালাবদল ঘটিয়েছে ডিপস্টেট। তাহলে কী তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ভারত? অতীতে এই প্রশ্নটা একাধিকবার উঠেছে। দিল্লির সদ্য সদ্য একটি ঘটনার পর প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানায় স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স অপারেশে চালিয়ে পাঁচ আইসিস জঙ্গির হ্যান্ডলার, স্লিপার সেলের সদস্য। ধৃত পাঁচ জনের নাম জানা গিয়েছে। এরা হল আফতাব, আবু সুফিয়ান, আশার ড্যানিশ, কামরান কুরেশি, হুজায়েফ ইয়েমেন। আফতাব এবং আবু সুফিয়ান ছিল মুম্বই। ধরা পড়ে দিল্লির নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে। আশার ড্যানিশ ধরা পড়ে রাঁচি থেকে। মধ্যপ্রদেশের রায়গড় থেকে স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স গ্রেফতার করে কামরান কুরেশিকে। অপর দিকে তেলেঙ্গানা থেকে হুজায়েফ ইয়েমেন। স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছেন, এদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। সেই দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হল ভারতে তরুণ সমাজকে আইসিসি যোগদান করানো, বোমা তৈরি করা, অস্ত্র জোগাড় করা। সেই সঙ্গে ভারতে আইসিসের জাল আরও বিস্তার করা। আর বড় ধরনের বিস্ফোরণ। এরা সকলেই নিজের নিজের ডেরা থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করত। নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের কাছে আছে, এই পাঁচজন বিভিন্ন রাজ্যে আত্মগোপন করে রয়েছে।
এদের কাছ থেকে অস্ত্র ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে বোমা তৈরির মশলা, রাসায়নিক, পিস্তল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, গ্লাভস, মাস্ক, এবং বেশ কিছু বিদ্যুতের তার। ভারতে বড় ধরনের নাশকতার ছক নিয়েই যে তারা এসেছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এটা নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই যে ভারতে তারা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালায়। এদের জেরা করে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স জেনেছে, ভারতে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল খিলাফত মডেল প্রতিষ্টা করা। এই পাঁচজন বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরা পড়লেও এদের নিজেদের মধ্যে সব সময় যোগাযোগ রেখে গিয়েছে। যোগাযোগ রেখেছিল পাকিস্তানের সঙ্গে। পাকিস্তান এবং তাদের মধ্যে যে সব বার্তা বিনিময় হয়েছে, তাতে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। এদের নিশানায় ছিলেন দেশের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতা। মানে, খতমের তালিকায় নাম ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে সেই সব নেতাদের তালিকা স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স প্রকাশ করেনি। তবে ওই সব নেতাদের নিরাপত্তা আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পাঁচজন ধরা পড়ল এমন সময়ে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ফোর্ট উইলিয়ামে হাইভোল্টেজ করতে চলেছেন। মোদির সঙ্গে আসছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ সিং। সেই বৈঠকে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি বেশ চাপে পড়ে যেতে পারে। এই পাঁচজনের গ্রেফতারি থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে যে বাইরের কোনও শক্তি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে অশান্ত করে নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। প্রত্যেকের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ছিল যৌথ দায়িত্ব। নেপাল এবং বাংলাদেশকে অস্থির করার চেষ্টা চলছিল অনেকদিন ধরে। সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। এবার ডিপ স্টেটের লক্ষ্য ভারত।
ভারতের সাফল্য ডিপ স্টেটের সহ্য হচ্ছে না। যে দেশকে একসময় বলা হত উন্নতিশীল দেশ, সেই দেশ কিন্তু অতীত তকমা হারিয়ে নতুন তকমা পেয়েছে। তাই, দেশকে যেভাবেই হোক অস্থির করে তুলতে তৎপর ডিপস্টেট।












Discussion about this post