হাসিনাহীন বাংলাদেশ মানে বিএনপির কাছে খোলা মাঠ। অন্তর্বর্তী সরকারে তত্ত্বাবধানে নির্বাচন আর হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে। সেই ভোটে বিএনপির ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। তার আগে দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলে ভূমিধস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু-র নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জিতেছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির। তাদের জয় বিএনপির কাছে যেমন একটা ধাক্কা, এই জয়ের মধ্যে দিয়ে আরও একটি বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে কি ইসলামীপন্থীরা শক্তিশালী হচ্ছে ? অনেকেই কিন্তু এর কোনও ব্যাখ্যা করতে পারছেন না।
ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লডা়ই করেছিলেন মোট পাঁচজন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েম। প্রতিদন্দ্বী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি কিছু ভোট। বাকিরা তো আরও পিছনে। সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন শিবির প্রার্থী এস এম ফারহাদ। পেয়েছেন ১০ হাজারে বেশি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর বারী হামাম পেয়েছেন ৫২৮৩ ভোট। বোঝা যাচ্ছে কার দিকে পডু়য়াদের সমর্থন কতটা ছিল।
এজিএস পদেও জয়ী হয়েছেন ছাত্র শিবিরের মহিউদ্দীন খান। পেয়েছেন ১১ হাজারের বেশি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজার ভোট। ডাকসুর সম্পাদকীয় পদের ১২টির মধ্যে নয়টিতে জয়ী হয়েছে শিবিরের প্রার্থীরা। বাকি তিনটি দখল করে নির্দল। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন সানজিদা আহমেদ তন্বি, সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মুসাদ্দিক আলী ইবনে, সমাজসেবা পদে সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন যুবাইর বিন নেছারি। সব মিলিয়ে বিএনপি ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্র শিবিরের তফাৎ চোখ পড়ার মতো। এটা কী অন্য কিছু ইঙ্গিত করছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যারা দেশে ক্ষমতায় থাকতে চায়, তাদের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের কাছে দিয়েছে ডাকসুর ছাত্র নির্বাচনের ফলাফল। এবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যারা এই ফলাফলের পরেও সচেতন হবেন না, তাদের কপালে দুর্ভোগ আছে। অনেকে আবার এই ফলাফল নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে নারাজ। তারা এই ফলাফল পাত্তা দিতেও চাইছে না। তাদের যুক্তি ডাকসু ভোটের ফল নিয়ে সামগ্রিক বাংলাদেশকে বিচার করার প্রয়োজন নেই। তবে এই ফল নিয়ে বিএনপি শিবিরে কাটাছেঁড়া চলছে। এই ফলাফল নিয়ে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, সেদিকেও তারা লক্ষ্য রাখছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কে একটা টানাপোড়েন চলছে। নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দুই দল বিপরীত মুখী। পিআর পদ্ধতিতে ভোটের ব্যাপের অনড় জামায়াত শিবির। আর বিএনপি চাইছে বর্তমান পদ্ধতিতেই ভোট হোক। বিএনপি শিবিরের খবর, ডাকসু-র ফল নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এর ফলে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ফাটল আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের পর পালটে যেতে থাকে রাজনৈতিক সমীকরণ। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তদারকি সরকার জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে জামায়াত শিবির আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়। শিবির নিজস্ব ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। সেখানে তারা জানায়, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আপসহীনভাবে মাঠে নেমেছি। ৩৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমরা আবার আমাদের অধিকার ফিরে পেয়েছি।’
প্রসঙ্গত ইসলামী ছাত্র শিবিরের জন্ম ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাত্র ছয়জন সদস্যকে নিয়ে তাদের পথ চলা শুরু। পরবর্তীকালে তারা রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সহ গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post