নেপালকে অস্থির করে তোলার পিছনে কী যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে? হাত রয়েছে সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার? ওয়াশিংটন কী বামপন্থী রাজনীতির উত্থানের বিরক্ত? কৌশলগত দিক থেকে কি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে বামপন্থীদের প্রভাব কমাতে চায়? এই সব প্রশ্ন উঠছে। তার কারণ নেপাল শান্ত একটি দেশ। আচমকা কোন রহস্যময় কারণে দেশটি বিক্ষোভের আগুনে পুড়তে শুরু করল। কারণ, নেপালে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগ নতুন নয়। তাহলে হলটা কী?
আসলে এর সূত্রপাত ২০২২ সালে। ওই বছর কয়েক হাজার মানুষ মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশন কম্প্যাক্টের (এমসিসি) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামে। নেপাল সংসদ এর অনুমোদন দিলে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটা আসলে একটি সংস্থা যা গোপন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিদেশি সাহায্যের আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়িত হয়। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বুশের একটি বয়ানের উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, দুর্বল রাষ্ট্রগুলি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এমসিসি বোর্ডের প্রধান হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কোষাধ্যক্ষ থাকাকে এর ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমসিসির মূল লক্ষ্য বাম রাজনীতি ধ্বংস করা। তাদের মতে, আমেরিকা যখন কমিউনিস্টদের থামাতে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন তাদের আন্দোলন ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলাদলিতে বিভ্রান্ত, কর্মপন্থা এবং প্রজাতন্ত্র কর্তৃক গৃহীত অর্থনৈতিক মডেলে বিভক্ত হয়ে কমিউনিস্টরা একটি ঘরে পরিণত হয়। কমিউনিস্ট এবং প্রাক্তন গেরিলা নেতা প্রচণ্ডর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকা এবং স্বজন পোষণের অভিযোগ ওঠে।
নেপাল চিনের আরও কাছাকাছি চলে যাওয়া আমেরিকার বিরক্তি বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড থেকে বাবুরাম ভট্টরাই, কেপি শর্মা ওলি, কমিউনিস্ট দল থেকে আসা সব প্রধানমন্ত্রী বেজিংয়ের আরও কাছে চলে আসেন। ওলি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে নেপালের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। সীমান্ত বিরোধ উত্থাপন করে ভারতের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলেক নিজেদের বলে দেখাতে শুরু করে নেপাল। এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রধানমন্ত্রী শিয়ের সঙ্গে দেখা করেন ওলি। বৈঠকে তিনি ভারত-চিন সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধীতার করেন।
প্রবীণ নেপাল বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিক আনন্দ স্বরূপ ভার্মা হিমালয়ের এই দেশটিতে বর্তমান বিদ্রোহে মার্কিন ভূমিকা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আনন্দ স্বরূপ বলেন, ওয়াশিংটন নেপালের কমিউনিস্টদের বিকশিত হতে দিতে পারে না। তারা যেভাবেই হোক এই শক্তিগুলিকে ধ্বংস করতে চায়। সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রগণ করেছেন। শুক্রবার রাত সওয়া নটা নাগাদ রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন। রাষ্ট্রপতির ভবন শীতল আবাস থেকে এক বিবৃতি জারি করে এই খবর দেওয়া হয়েছে। নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন নির্বাচিত হলে কার্কি নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবারেই পরবর্তী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে নেপালের ছাত্র-যুবরা সুশীলাকেই বেছে নেন। নেপালের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সুশীলার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। তিনি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য এক হাজার লিখিত স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। জমা পড়ে আড়াই হাজারের বেশি সাক্ষর। এর পরে আন্দোলনকারীরা বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনীকে অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post