বিতর্কিত হিন্দি সিনেমা দ্য বেঙ্গল ফাইলস নিয়ে এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন। বাংলার ইতিহাস নিয়ে তৈরি এই সিনেমা আত্মপ্রকাশের পর থেকে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। কারও অভিযোগ, ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, নিছক এটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। তসলিমার মতে, ছবিটি বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তসলিমা লিখেছেন ‘সাড়ে তিন ঘণ্টার এই ছবি দেখতে গিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে – বাংলার ইতিহাস নিয়ে কেন বাঙালিরা সিনেমা বানায় না। বহিরাগত পরিচালকেরা বাংলার ইতিহাস নিয়ে সিনেমা তৈরি করেন। তখন অনেক সময় সঠিক তথ্যের বদলে ভুল তথ্য দর্শকদের মনে গেঁথে যায়। ফলে, দ্য বেঙ্গল ফাইলস –য়ের মতো সিনেমা সাধারণ মানুষের মনে ঠিক ইতিহাস হয়ে যেতে পারে যা বাংলার জন্য ক্ষতিকর।’
নাসরিন লিখছেন, ‘আমি বহু যুদ্ধের সিনেমা দেখেছি। যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। হলোকস্ট, পল পটের মতো হত্যাকাণ্ড কিংবা মাও সেতুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে তৈরি অসাধারণ সব ছবি। সেই ছবিগুলি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। কিন্তু বেঙ্গল ফাইলস, কোনওভাবেই সেই মানে পৌঁছাতে পারেনি। সিনেমাটি দর্শকদের হৃদয়ে না পৌঁছে সাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিতে পারে।’
লেখিকা এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও দুর্দশার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হয়। তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তা নিয়ে একটি সংবেদনশীল সিনেমা তৈরি করা উচিত। বাংলার ইতিহাস নিয়ে বাঙালি পরিচালকেরা সিনেমা না তৈরি করেন, তাহলে কোনও একদিন বহিরাগতরা কেউ বাংলাদেশ ফাইলস নামে একটি প্রোপাগান্ডা ফিল্ম বানিয়ে ফেলতে পারে।’
তসলিমা নাসরিন স্বীকার করেন যে একজন পরিচালকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতা থাকা উচিত। তাঁর মতে, বাংলা ও বাংলাদেশের ইতিহাসের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরির সময় নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা জরুরী। তসলিমার এই বক্তব্যে অনেকে সায় দিয়েছেন। বলছেন, এই ছবি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য করা হয়েছে। ছবিতে শুধুমাত্র ইতিহাসের অপলাপ ছাড়া আর কিছু নেই। তাদের বক্তব্য, ছবিতে গোপাল মুখোপাধ্যায়কে অবমাননা করা হয়েছে। তাঁকে কসাই এবং পাঁঠা বলা হয়েছে। এই নিয়ে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের পরিবারবর্গ অসাম্মিত বোধ করছে। গোপাল মুখোপাধ্যায়কে এই ছবিতে হিন্দুদের মসিহা দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, মুসলিমদের কতটা ঘৃণা করতেন, সেটাও এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। যা সর্বৈব মিথ্যা, বিবেকের কল্পনাপ্রসূত। অনেক সমালোচক বলছেন গোপাল মুখোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন, তিনি কোনও ধর্মের বিরোধী নন। শুধুমাত্র সেই সময় যারা মুসলিম লীগের হয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্গত করার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। গোপাল মুখোপাধ্যায় তার জীবদ্দশায় একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হাতে অস্ত্র কোমরে বন্দুক থাকার পরেও তিনি পরিস্থিতির কথা চিন্তা মুসলিমদের ওপর কোনও অত্যাচার করেননি। অহেতুক প্রাণ নেওয়ার মতো কোনও কু মতলব তাঁর ছিল না। কিন্তু বিবেকের ছবিতে গোপাল মুখোপাধ্যায় দেখানো হয়েছে সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে, যা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই ছবির নির্মাতা বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী। এই ছবির মূল ভিত্তি ১৯৪৬ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। রাজনীতির মঞ্চ তো বটেই, তার সঙ্গে এই ছবি নিয়ে আদালতে পর্যন্ত মামলা হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post