বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখনও মনে করেন যে সেনাপ্রধান যেহেতু হাসিনার আত্মীয়,এবং মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করেন, তাই তিনি কোন না কোন ভাবে আওয়ামীলীগের পূনর্বাসনের চেষ্টা করবেন। তার উপর আবার হাসনাত তো আগেই বলে দিয়েছে যে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আওয়ামীলীগের পূনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের বহু মানুষ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরও সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপের আশায় বসেছিলেন।অনেকে হয়তো এখনও আশা করে আছেন সেনাপ্রধান কিছু একটা ব্যবস্থা করবেন। আর সেনাপ্রধনের উপর এই ভরসা করাটা শুধু বোকামিই নয়, আওয়ামীলীগের দূর্বলতাও বটে। যে দলটি দেশ স্বাধীন করেছে এবং বহুবার বহু বিপদের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাদের নিজেদের উপরই ভরসা রাখা উচিৎ। অনেকে হয়তো বলবেন সেনাপ্রধানের উপর ভরসা রাখতে নিষেধ করছি কেন। তাদের বলি সেনাপ্রধান যদি মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করতেন, তাহলে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হওয়া অন্যায়,মব এবং অকারণে গ্রেফতারের প্রতিবাদ করতেন। তিনি কি তা করেছেন।শুধু মাত্র এক জনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন অন্য এক সেনা কর্তা।কিন্তু এক জনই তো আর মুক্তি যুদ্ধ করেননি। বহু মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা হয়েছে, সেই নিয়ে কোন প্রতিবাদ দেখা যায় নি সেনার পক্ষ থেকে। তিনি বার দেশের মানুষকে আশ্বস্থ করেছেন। ৫ই আগস্টের পর থেকে বহুবার বহু বক্তব্য রেখেছেন কিন্তু কাজের কাজ কি করেছেন। তিনি বহুবার সম্প্রিতির কথা বলেছেন।। তিনি যা বলছেন তা সত্যি হলে, বাংলাদেশে কোন সংখ্যা লঘু অত্যাচারের ঘটনা ঘটার কথা নয়, অথট বাংলাদেশে প্রতিদিন যত পরিমান সংখ্যালঘু অত্যাচারের ঘটনা ঘটে, তার একটিরও প্রতিবাদ করে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি । তিনি বলছেন এই দেশে বহুবছর থেকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করছে এবং এই দেশ সবার। তার এই বক্তব্যকে মেনে নিলে আজ যারা বলছে এই দেশ এখন আমাদের দখলে যারা ৭১এ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের ঘরবাড়ী থাকবে না। এটি কাদের বক্তব্য। এটি আসলে যাদের বক্তব্য, সেনাপ্রধান এখন সেই দলেরই লোক। বাংলাদেশে কু হয়ে গেছে ৫ই আগস্টেই। কিন্তু সেটিকে বলা হচ্ছে না। কারণ ইউনূসকে পুতুল হিসাবে বসিয়ে রাখলে সেনার সুবিধা হল ভোট করানোর ক্ষেত্রে তাদের কোন দায় দায়িত্ব থাকবে না। দোষ হবে ইউনূস সরকারের।আর সেনা যদি সরাসরি ক্ষমতা নিয়ে নিত, তাহলে ৫ই আগস্ট যে ঘোষনা করা হয়েছিল ৬মাসের মধ্যে ভোট হবে। সেটি তাদের করাতে হত। এবার বলি আওয়ামীলীগের জনগনের সমর্থন নিয়ে। বাংলাদেশে ৫ই আগস্টের পর দুটি সমিক্ষ্যা হয়েছিল। ৮মাস আগের সমিক্ষ্যাতে জামাত, বিএনপি এবং এনসিপির ভোট যোগ করলে হয় ২৮ শতাংশ।বর্তমান সমিক্ষায় বিএনপির ভোট আরও কমে গেছে, তাদের অত্যাচারের কারণে।বিশেষ করে সংখ্যালুঘুদের উপর অত্যাচারে জামাতকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিএনপি। ফলে এখন যদি আওয়ামীলীগ ভোটে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পায়, তাহলে তাদের ভোট প্রায় ৬০ থেকে ৬২ শতাংশ।যদিও জামাতের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই দিতে হবে এই দলটিকে, কারণ জামাত বাইরে থেকে নিজেদেকে যা দেখাচ্ছে, ভিতরে ভিতরে তারা ভীষন ভয়ঙ্কর। যদি আওয়ামীলীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে তাহলে তাদের কেউ আটকাতে পারবে না। কারণ সমিক্ষার ফল দেখার পর অন্য সব দলই ভয়ে আছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছে তারা আওয়ামীলীগের উপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে।আর এনসিপি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে।এখন আর হাসনাত সারজিস দের মাঠ গরম করা বক্তব্য শুনতে পাওয়া যায় না। শুধু এনসিপি নয় বড় বড় উপদেষ্টারাও চাইছে দেশ ছেড়ে পালাতে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post