বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে? আদেও কি দেশ সুষ্ঠ রয়েছে? নাকি বিশৃঙ্খলার চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে? এই প্রশ্নটা আরও বেশি করে উস্কে দিচ্ছে, যখন দেশের এই রাজনীতিক এমন কথা বলেন। বিএনপি নেত্রী রুমীন ফারহানা সম্প্রতি এমন একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি মব সংস্কৃতির জন্য ইউনূস সরকারকে দায়ি করেছেন। যা ঘিরে নানাভাবে কাটাছেঁড়া চলছে।
যত দিন যাচ্ছে দেশের পরিস্থিতি ততই খারাপের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বিনিয়োগ কমছে, অস্থিরতা বেড়েই চলছে, মেধাশীল তরুণরা বিদেশে পাড়ি দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করছে। অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কর্তব্য পালন না করে হঠাৎ প্রাপ্ত ক্ষমতা উপভোগে ব্যস্ত। ফলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার এই মন্তব্যে বাংলাদেশে প্রবলভাবে আলোচনা, সমালোচনা চলছে।
জানা যায়, একটি টকশোতে বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। আর তা ঘিরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খবর হয়েছে।
এমনকি মব প্রসঙ্গে বিএনপি নেত্রী বলেন, দেশের অবস্থা শেষ। আপনি দেখেন ৩৭০টা না ৩৮০ টা মব হয়েছে গত ৩৬৫ দিনে। ৩৭০টা মব যদি ৩৬৫ দিনে হয়, ওই দেশে তো পাগলও বিনিয়োগ করবে না। ওই দেশে তো পাগলও বাস করতে চাইবে না।
তিনি বলেন, যত দিন যাচ্ছে ততই কিন্তু পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলার অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, সাধারণ মানুষ অধৈর্য হয়ে উঠছে। অধৈর্যের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমনকি নেপালের উদাহরণ টানেন বিএনপি নেত্রী। তিনি বলেন, নেপালে মাত্র তিনজনের মন্ত্রিসভা হয়েছে এবং শপথগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তারা বললেন আমাদের পরবর্তী প্রধান কাজ হল নির্বাচন।
অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দায়বোধের অভাবের কথাও উত্থাপন করেন রুমিন। তিনি জানিয়ে দেন, আজ ডক্টর আলী রিয়াজ বলেন, কেবল নির্বাচনই দেশে কোনও পরিবর্তন আনতে পারে না। তাহলে আমরা তো এক বছর পার করে দেখেছি নির্বাচন ছাড়া কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
সংবিধান সংস্কার, নারী-সংস্কার কমিশন, চিকিৎসা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, এগুলোও গঠিত হয়েছে। এমনকি তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলি একমত হয়েছে। কিন্তু কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রুমিন বলেন, অনেককে বহু বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন। বিদেশে বসবাস করে বিদেশিদের সঙ্গে সন্ধ্যার সময় কাটিয়ে হয়েছেন। বাংলাদেশে মানুষের অবস্থার কথা নিয়ে ভাবেননি। ভবিষ্যতেও আপনি সম্ভবত তেমনি করবেন;। কিন্তু বাংলাদেশেই আমাদের থেকেও জীবিত থাকতে হবে, সম্ভবত আমাদের মৃত্যু ও বাংলাদেশেই হবে। অর্থাৎ রুমিন ফারহানা মব নিয়ে সোচ্চার হন। পাশাপাশি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তিনি। এর আগেও রুমিন কিছু মন্তব্য করে দলের রোষে পড়েছিলেন। এখন দেখার, এর পরবর্তী কি পরিস্থিতি হয়।












Discussion about this post