সম্প্রতি ফোর্ট উইলিয়ামে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে সেনাপ্রধান রাজনাথ সিং, তিন বাহিনীর প্রধান, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ ছা়ডাও ছিলেন বাহিনীর পদস্থকর্তারা। এই বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র মারফৎ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বৈঠকে সেনাকে বলা হয়েছে, প্রথা ভেঙে নতুন ছকে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।
বৈঠকে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রজন্মের যুদ্ধগুলি আকষ্মিক। সেই সঙ্গে অপ্রত্যাশিত। ফলে, এই ধরনের যুদ্ধ কতদিনে শেষ হবে বা কতদিন ধরে চলবে, তা বলাও সম্ভব নয়। অনুমান করাও যায় না। যুদ্ধ এক বছর চলতে পারে, বা পাঁচ বছর চলতে পারে। এবার যুদ্ধ এক মাস বা দু মাসের হতে পারে। তাই, সব কিছুর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
চলতি বছরকে সংস্কারের বছর হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বছরটি হল ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণের। অপারেশন সিঁদুর দেখিয়েছে শক্তি। দেখিয়েছে কৌশল এবং আত্মনির্ভরতা। এই তিনটি ভারতে সেনার স্তম্ভ। অদম্য সাহসের সঙ্গে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা ভারতের আছে। এটা আত্মনির্ভর ভারতের আসল শক্তি।’
মোদি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এবার চিরাচরিত প্রথা বা নিয়মগুলি বর্জন করার সময় এসেছে। শত্রু মোকাবিলায় আমাদের অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
সেনাবাহিনীর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হল অস্থির বাংলাদেশের বছর পূর্তির পরে। সে দিক থেকে যেমন এই বৈঠকের তাৎপর্য তো রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য খুঁটিয়ে দেখলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বক্তব্যের বার্তা কাকে। সরাসরি বাংলাদেশের নাম উল্লেখ না করেও কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পাকিস্তান তো রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে যুদ্ধের রূপরেখা বদলাতে শুরু করেছে। বাহিনী ক্ষয়ক্ষতি যাতে কম হয়, তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দ্রোন। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাইবার যুদ্ধের দিকেও। যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। যুদ্ধের সংজ্ঞার আমূল পরিবর্তন হয়েছে।
আলোচনা হয়েছে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের কৃতিত্ব পুরোপুরি বাহিনীকে দিয়েছেন।
বুধবার ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন। জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেলে অপারেশন সিঁদুরের কথা। ভারতীয় সেনার অভিযানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভারত আর পরমাণু হুমকিতে ভয় পায় না।‘ সিদুঁর যে জইশের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সে কথা তারা স্বীকার করে নিয়েছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠীর এক নেতা স্বীকার করে নিয়েছেন, জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের পরিবারকে নিকেশ করেছে ভারতীয় সেনা।
উল্লেখ করা যেতে পারে, অপারেশন সিঁদুরের আবহে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই হুমকি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নতুন ভারত। আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমরা ঘরে ঢুকে শত্রুকে খতম করার ক্ষমতা রাখি।
সেই হুমকির পরে পরেই কিন্তু ফোর্ট উইলিয়ামে বাহিনীর তিন প্রধান এবং অন্যান্য শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অস্থির বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামলা হলে তার মোকাবিলা করতে তো হবেই। তবে চিরাচরিত প্রথার মধ্য দিয়ে নয়, নতুন কৌশলে, যে কৌশল প্রতিপক্ষ আন্দাজ করতে পারবে না তার ক্ষমতা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post