ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখে তীব্র ভারতবিরোধী স্লোগান শোনা গেলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি। আম আর ইলিশ উপহার, রেল কোচ আমদানি, বিদ্যুৎ চুক্তি নবায়ন—সবই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে। অথচ জনগণের সামনে বলা হয়েছিল চুক্তি বাতিলের কথা, ভারতীয় শ্রমিক ফেরত পাঠানোর কথা।তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—আম আর ইলিশের আড়ালে কি সত্যিই যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে? ভারতের সেভেন সিস্টারথেকে অনতি দুরেই পাকিস্তানের আইএসআই-এর জন্য ইস্ট ফ্রন্ট খুলতে দেওয়া আর বঙ্গোপসাগরে চীনা নৌবাহিনী। আবার চট্টোগ্রামে আমেরিকার সেনাবাহীনির ক্রমাগত আনাগোনা।সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে কি নতুন করে আন্তর্জাতিক সংঘাতের ময়দান বানানো হচ্ছে? অন্যদিকে ছাত্রউপদেষ্টা থেকে আইনি উপদেষ্টারা, সবাই দেশ এবং দেশের বাইরে আওয়ামীলীগের তাড়া খাচ্ছে। অথচ এই অপমান মাথায় নিয়েই দিব্যি গদি আঁকড়ে বসে আছেন মহম্মদ ইউনূস। আবার হাসিনার মামলায় রাষ্ট্র দ্বারা নিযুক্ত উকিলই নাস্তানাবাদ করছে রাষ্ট্রকে। যদি হাসিনার পদত্যাগ পত্র না পাওয়া যায়, তাহলে এই সরকার অবৈধ।জোর করে ক্ষমতা দখলকারী। আবার বাংলাদেশে হিন্দুদের সব থেকে বড় উৎসব দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মৌলবাদের হূঙ্কার, আর ইউনূস নিজেই বলছেন তিনি অসহায়, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রউপদেষ্টার মিথ্যে আশ্বাস বানী ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার নেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের।
সব মিলিয়ে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না নোবেল ক্রেতা। তিনি আসার আগেই তাকে নিয়ে বাংলাদেশে যে ধরণের প্রচার চালানো হয়েছিল, সেটি যেমন তিনি নিজে করেছেন আবার অন্যদের দিয়েও করিয়েছন। কিন্তু একবছর পরে তিনি কোন দেশের সাথেই এমন কোন চুক্তি করতে পারেন নি, যাতে বাংলাদেশ লাভবান হয়, চীন পাকিস্তান কেউই এগিয়ে আসেনি। একমাত্র ভারতের সাথে তাদের পুরানো চুক্তিগুলির নবিকরণ ছাড়া। এখন প্রশ্ন ভারত এবং হাসিনার বিরুদ্ধে হাজারটি কথা বলে ক্ষমতায় আসা ইউনূস এখন কেন ভারতের পায়ে পড়তে চাইছে। তিনি কি দু-মুখো সাপ। যখন বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ তখনও তিনি আদানিদের টাকা মিটিয়ে, তাদের হাতে রাখতে চেয়েছেন। আবার আম ইলিশ পাঠিয়েও, কখনও বলছেন পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। আর সেই বাধ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলছেন সৌজন্যের খাতিরে পাঠিয়েছেন। হাসিনার আমলে অল্প ইলিশ আসলেও বলা হত দেশের মানুষ খেতে পারছে না অথচ ভারতে কেন ইলিশ পাঠানো হবে। এখন তো বাংলাদেশে তিন হাজার টাকা কেজি ইলিশ। সাধারণ মানুষতো দুর বৃত্তবানেরাও খেতে পারছে না বলে অভিযোগ।ইউনূসের এই আলাগা পিরিতির আড়ালে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানিও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি পাকিস্তানের আই এস আইয়ের জন্য ইস্টফ্রন্ট খুলে দিচ্ছেন। লক্ষ্য ভারতের সেভেন সিস্টারকে অশান্ত করা। আবার আমেরিকার সৈন্যদের জন্য চট্টগ্রাম সেন্টমার্টিন সব দিয়ে দিচ্ছেন। যৌথ মহড়ার নামে বাংলাদেশকে আমেরিকান সৈন্যদের অবারিত দ্বারে পরিনত করেছেন তিনি।তারই পাল্টা হিসাবে ভারত আবার মায়ানমারে সৈন্য পাঠিয়ে যৌথ মহড়া চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ হবে আগামী বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলির জন্য রণভূমি। আর এখান থেকেই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে,আগামীর বিশ্বকে কে শাসন করবে। আমেরিকা নাকি ভারত রাশিয়া এবং চীনের জোট। কোন দেশ তাকে না ডাকলেও তিনি বিভিন্ন দেশে গেছেন, তবে আগের বার লন্ডনে তিনি যে খাতির পেয়েছেন আওয়ামীলীগের কাছ থেকে, তাতে তিনি ভয়ে আর একা একা কোথাও যান না। সঙ্গে করে অন্যদলের লোকেদেরও নিয়ে যান। যাতে তিনি আক্রান্ত হলে তারা যেন তাঁকে বাচান। কিন্তু মাহফুজ আলম থেকে শুরু করে সারজিস এমনকি আসিফ নজরুল থেকে প্রেসসচিব সকলেই দেশ বিদেশে লীগের খাতির খেয়েছেন, তবুও পদত্যাগের ইচ্ছা নেই প্রধান উপদেষ্টার। মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে তিনি কিভাবে শান্তির জন্য নোবেল পেলেন। তিনি প্রকৃত নোবেল জয়ী হলে কবেই তো পদত্যাগ করতেন।












Discussion about this post