গত বছর গণ অভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা কি পদত্যাগ করেছিলেন? আদেও কি সেই পদত্যাগ পত্র আছে? এমন আলোচনা বিগত দিন থেকে বাংলাদেশে হয়ে আসছে। যদিও বিভিন্ন সময় অডিও বার্তাতে তিনি দাবি করেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। আওয়ামী লীগের তরফেও একই দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা বারবার নির্বাচনের কথা বলেছেন। যেখানে অংশগ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। যখন তিনি এই দাবিগুলো করছেন, তখন সরকারের ভিতর থেকে বেশ কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। রাষ্ট্রপতি যখন বললেন যে, তার কাছে কোনও পদত্যাগ পত্র নেই, যখন মতিউর রহমান এই ধরনের একটি রিপোর্ট করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন। তখন আবার রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে নানা ধরণের আলোচনা শোনা যায়। শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রসঙ্গ নিয়ে নানা জল ঘোলা হয়েছে। কিন্তু এই বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। এখন আবার আদালতে নতুন করে বলা হল, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। আদালতে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। নাহিদ ইসলামকে পর্যন্ত জেরা করেছেন। আসলে কি হল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, চলুন আলোচনা করা যাক।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। চলছে বিচার প্রক্রিয়া। ওই আদালতে রাষ্ট্র নিয়োজিত শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী এদিন বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ৫ ই আগস্ট পদত্যাগ করেননি। তিনি নাকি ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমন দাবি নিজেও করেছিলেন শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জেরা করা হয়েছিল। জেরার একপর্যায়ে তিনি বলেছেন, মানবতা বিরোধী মামলায় শেখ হাসিনা সহ তিন জনের বিরুদ্ধে ৪৭ তম সাক্ষী হিসাবে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। এইদিন শেখ হাসিনার আইনজীবী তাকে জেরা করে। জবানবন্দিতে দেওয়া নাহিদ ইসলামের বক্তব্য, প্রত্যাখ্যান করেছেন আইনজীবী আমির হোসেন। তিনি বলেন, গত বছর ৩ অগাষ্ট সরকার পতনে ডাকা এক দফা দাবিতে কর্মসূচি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ছিল। অর্থাৎ এটা দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা। এই আন্দোলনের পিছনে বাইরের শক্তির হাত ছিল। এমনকি সেই ভাবেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মহম্মদ ইউনূসকে সিংহাসনে বসানো হয়েছিল। অর্থাৎ পুরোটাই পূর্ব পরিকল্পিত।
শেখ হাসিনার আইনজীবী বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে কোনও কথা বলা সমীচীন নয়। তবে বিচারের খাতিরে সেটি বলতে হচ্ছে। তিনি শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার বা কোনও মারণাস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ তিনি দেননি। বরং জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এমনকি গণ অভ্যুত্থানে কোনও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়নি। আমির হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সব সত্যি নয় বলে দাবি জানান।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যখন শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী আমি হোসেন বলার চেষ্টা করলেন, গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত এবং কোনও মানবাধিকার অপরাধ সংগঠিত হয়নি, তখনই রাষ্ট্রের পক্ষের আইনজীবী বলে ওঠেন, এগুলির কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। একরকম তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধুমাত্র শেখ হাসিনা নন রাষ্ট্রের নিযুক্ত তার পক্ষের আইনজীবী বললেন, হাসিনা পদত্যাগ করেননি। এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ পত্র সামনে আনা হয়নি। এটা ঘিরেই নানারকম প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। অনেকে আবার বলার চেষ্টা করছেন, যেহেতু তিনি দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন সেটা কি পদত্যাগ হিসেবে ধরা হবে।
তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীকে থামিয়ে দেওয়া, অন্য বার্তা যেতে পারে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। যা ঘিরে বিচার প্রক্রিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে পারে। আর সেই কারণেই অনেকে বলার চেষ্টা করছেন, এখানে সরকারের অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত। যাতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন তুলতে না পারে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post