স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রথম থেকেই যিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলে কানাঘুঁষো, আসিফ মাহমুদ সচিবালয়ের দুর্নীতি চক্রের অন্যতম পাণ্ডা। এবার তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, আমাদের তিনটা প্রজেক্ট এখনও এলজিআরডি মিনিস্ট্রিতে আছে। অ্যাডভাইজার সাহেব এটা যখন দেখেন যে এটা একটা প্রজেক্ট, উনি ফাইলটা আর মিনিস্ট্রিতে রাখেন না, ঘরে নিয়ে চলে যান। এটা আমার গত ১১ মাসের অভিজ্ঞতার কথা বলছি।
সোমবার চট্টগ্রামের জামালখানে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ‘পরিচ্ছন্নতা সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানেই বাংলাদেশের অন্যতম উপদেষ্টা তথা ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এমনই সব গুরুতর অভিযোগ তোলেন চট্টগ্রামের মেয়র। তাঁর আরও অভিযোগ, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের যন্ত্রপাতি কেনার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে। এরপরও কোনও ফলাফল পাওয়া যায়নি। এরপরই তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, দিজ ইজ দ্য প্যাটিথিক সিনারিও দ্যাট উই আর ফেসিং নাও আ ডেইজ’। ফাইল আছে সবই আছে। খুব চমৎকারভাবে উনারা বাসায় নিয়ে যান। মিনিস্ট্রি থেকে ফাইল গায়েব হয়ে যায়। এটা আমার গত ১১ মাসের অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামের মেয়র বলেন, “চারশ কোটি টাকার আমার যে ইন্সট্রুমেন্টের প্রজেক্ট, সেটা ফিন্যান্স মিনিস্ট্রিতে গিয়ে হয়ে গেল ২৯৮ কোটি টাকা। প্রায় একশ কোটি টাকা কেটে দিল। প্রতিটি বিষয়েই তাঁর অভিযোগের তির ছিল আসিফ মাহমুদ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের মেয়রই শুধু নয়। এর আগেও বাংলাদেশের বিভিন্ন পদাধিকারীরা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই মন্ত্রণালয়ের হাতেই রয়েছে সর্বাধিক অর্থ বরাদ্দের চাবিকাঠি। বাংলাদেশের যত কর্পোরেশন, পুরসভা ও পঞ্চায়েত রয়েছে, সেগুলির মাথায় এই মন্ত্রণালয়। ফলে উন্নয়মমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আসিফ মাহমুদের ভূমিকা সর্বাধিক। কিন্তু তিনি আদ্যোপান্ত দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কেটে দেওয়া, টেন্ডার পাশে চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন নিয়োগে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাত হোসেন যেমন অভিযোগ করে বললেন, ‘আমার ফাইল কই? বলে, ফাইল তো বাসায় নিয়ে গেছে। এখন বাসা থেকে ওটা আর পরে সিগনেচার হয় না। ওটা আর আসে না। এরপরই তাঁর আক্ষেপ, যুক্তরাজ্যের প্রকল্পটা আমি আর করতে পারিনি। জাপান অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ কোরিয়ার প্রজেক্টও করতে পারলাম না। আজ এগুলো যদি আমি অনেক দ্রুত পেতাম, তাহলে চট্টগ্রাম শহর অনেক সুন্দর করে দিতে পারতাম। তাঁর কথায়, এটা শুধু চট্টগ্রাম সিটির ব্যর্থতা নয়, এটা রাষ্ট্র ও সরকারের ব্যর্থতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, চট্টগ্রামের মেয়র যে অভিযোগ তুললেন, সেটা কেবলমাত্র আসিফ মাহমুদকে লক্ষ্য করে নয়। তাঁর অভিযোগের তির কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দিকেও।












Discussion about this post