বাংলাদেশের দুর্গাপূজা নিয়ে এমনিতেই চিন্তায় হিন্দুরা। এর মধ্যেই দাবি, আসন্ন দূর্গাপুজা উপলক্ষে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে নাম রয়েছে চট্টগ্রামের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট ২৯ জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বাকি ২৪ টি জেলা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ঘটনা হল, এই ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করেছে ‘সম্প্রীতি যাত্রা’ নামের একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। তাঁরা ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার প্রতিবেদনে প্রকাশিত পূজা এবং অন্য সময়ে পূজামণ্ডপ ও শোভাযাত্রার রুট বা সংখ্যালঘু বাড়িঘরে হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে।
যে পাঁচটি জেলাকে এই সংগঠন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো হলো- ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী। যদিও চট্টগ্রামকে রাখা হয়েছে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম হল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। যেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুরা একত্রিত হতে চেয়ে যেভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু। তাঁকে এথনও কারাগারের অন্তরালে থাকতে হচ্ছে, তাঁর জামিনের মামলার শুনানিও হচ্ছে না ঠিকভাবে। এই বিষয়ে ‘সম্প্রীতি যাত্রা’ নামে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধির বক্তব্য হল, সরকার মব ঠেকানো বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হয়েছে।
ওই প্রতিষ্ঠানের আরেকজন প্রতিনিধির দাবি, আমরা বরাবর দেখেছি বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতি বলতে শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতি দেখেছি। অন্যান্য ধর্মের প্রতি সহানুভুতি আমরা বিগত সময়েও দেখিনি, আজও দেখতে পারছি না।
২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সাংবাদিক বৈঠকে ‘সম্প্রীতি যাত্রা’-র প্রতিনিধিরা একটি সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করেন। তাতে বলা হয়েছে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের ৫টি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৪টি জেলাকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই সংগঠনের দাবি, মন্দির-মসজিদ, মাজার-আখড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। উপরন্তু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর উগ্রবাদী সম্প্রদায়ের সংঘবদ্ধ আক্রমণ বেড়েছে। এক্ষেত্রে আক্রমণকারী মবকে ‘প্রেশার গ্রুপ’ সাব্যস্ত করে সবধরনের নিপীড়নবাদী তৎপরতাকে বৈধতা দিয়ে চলেছে সরকার। উল্লেখ্য, আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পুজো উদ্যোক্তাদেরই নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগে চাপ দিচ্ছে। সরকারি তরফে আনসার ও অন্যান্য বাহিনীকে মোতায়েন করার কথা বলা হলেও তা থাকবে মূলত টহলদারি ভিত্তিক।












Discussion about this post