নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লিগের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উথাল-পাতাল শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। কেন মার্কিন মূলকে বাংলাদেশের হাইকমিশন প্রধান উপদেষ্টা-সহ পাঁচ রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা নিয়ে কেন আগাম ব্যবস্থাপণা করতে পারল না সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সরব হয়েছে এনসিপি নেতারা। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম ছুড়ে মারার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চার নম্বর টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে আখতার হোসেনকে যুবলীগ কর্মী মিজানুর রহমান ডিম ছোড়েন বলে অভিযাগ। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আখতার হোসেনের পাশেই হাঁটছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে গেলে শোনা যাচ্ছে কেউ একজন বলছেন, মহিলাদের গায়ে কেউ ডিম ছুড়বেন না। ফলে তাসমিনের গায়ে কোনও ডিম আছড়া না পড়লেও এনসিপি নেতা আখতারের জামা ডিমের আঘাতে নোংরা হয়ে যায়। যদিও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা এ সময় তাসনিম জারাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন।
ভিডিও উইথ অ্যাম্বিয়েন্স
জানা যাচ্ছে, নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা বিএনপি নেতা সোলাইমান রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশ মিজানুর রহমান নামে ওই যুব লিগ কর্মীকে আটক করে হাজতে পুরেছে। এবারের নিউ ইয়র্ক সফরে মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির পাঁচ নেতা। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীরা ম্যানহাটানের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের শাখা আগেভাগেই ওই হোটেলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য একটা অনুমতি নিয়ে রেখেছিল। ফলে পাঁচ নেতানেত্রী ওই হোটেলে গিয়ে ওঠার পরই সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন নিউ ইয়র্কের আওয়ামী লীগের সভ্য-সমর্থকরা। এরপরই দেখা যায়, কিছু এনসিপি সমর্থকও সেখানে হাজির হয় এবং স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে এনসিপি নেতা আখতার হোসেন এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিচার দাবি করেছেন।
যদিও বাংলাদেশের এনসিপি নেতাদের দাবি, তাঁদের শীর্ষ নেতার উপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনার জন্য দায়ী নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ মিশনের অফিসাররা প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত পদক্ষেপ না করার জন্যই আওয়ামী লিগ একতরফাভাবে বিক্ষোভ করতে পেরেছে। সফরসঙ্গী এনসিপি নেতা আজতার হোসেনের গায়ে ডিম নিক্ষেপ করতে পেরেছে।
অপরদিকে ইইনুসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উজ্জীবিত আওয়ামী লিগ। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, নিউইয়র্কের বিক্ষোভের ঘটনা গোটা বিশ্বে আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন তুমুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দলের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে দলনেত্রী শেখ হাসিনার মার্কিন প্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ইউনুস বিরোধী কর্মসূচির নেপথ্যের কাণ্ডারী। তিনিই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লিগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছকে দিয়েছেন। গত বছর ৫ অগস্ট তাঁর মায়ের সরকারের পতনের পর থেকেই দলের জন্য বাড়তি সময় দিচ্ছেন জয়। খাতায়কলমে তিনি আওয়ামী লিগের কোনও সাংগঠনিক পদে নেই। তিনি দলের সাধারণ সদস্য মাত্র। কিন্তু তাঁকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের একজোট করা এবং ওয়াশিংটনে লবি করার দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর মা শেখ হাসিনা। এই কাজটা সফলবাবেই করলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসের অবতরণ করার পর থেকেই নিউ ইয়র্কে তাঁকে এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ঘিরে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে।












Discussion about this post