পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, জাতিসংঘের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পৃথক বৈঠক হবে। বৈঠক হয়নি। বৈঠকের আয়োজন করতে ব্যর্থ তদারকি সরকার।
মহম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক। বাংলাদেশের তরফে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর ইউনূসকে সময় দিতে অস্বীকার করে। এটা হওয়ারই কথা ছিল।
গত বছরও জাতিসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন ড. মহম্মদ ইউনূস। বৈঠক করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। দ্বিপাক্ষিক স্তরের নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। আর সেই সাক্ষাৎকারকে ইউনূস সরকার ফলাও করে প্রচার করে। বার্তা দিতে চেয়েছিল মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইউনূস সরকারের ভালোই বোঝা পড়া আছে। ইউনূস সরকারের পাশে রয়েছে হোয়াইট হাউজ। কিন্তু এক বছরে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এরই মাঝে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের নৈশভোজে দেখা হবে। এবার এই বিবৃতিকে একটু গভীরভাবে দেখা যাক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সৌজন্যে নৈশভোজের আয়োজন করেন। সেখানে সব রাষ্ট্রপ্রধান আমন্ত্রিত। তাদের মধ্যে একজন মহম্মদ ইউনূস। সুতরাং, আমন্ত্রণ রক্ষা করতে তিনি যে ওই নৈশভোজে যোগ দেবেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হবে, এর মধ্যে অবাক হওয়ার মতন কোনও ঘটনা চোখে পড়ছে না। কিন্তু ইউনূস চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্ত বৈঠক। সে আশায় হোয়াইট হাউজ জল ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু সে দেখা যে সে দেখা নয়, সেটা পাগলেও বোঝে। আর সেটাকেই একটা হাইপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে মহম্মদ ইউনূসের বৈঠক রয়েছে বলে তিনি খবর দিয়েছেন। আরও বলেছেন, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এটা যে আরও হাস্যকর তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের ফারাক যে কতটা সেটা একটি দুধের শিশুও জানে। আর সেই সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ঢাক পেটাচ্ছেন মহম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকারের পরারাষ্ট্র উপদেষ্টা। তাহলে ইউনূসের এই জাতি সংঘের সফরের নির্যাস কী? হাতে রইল পেন্সিল। এবার আসা যাক কেন?
দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক ঠিক করে তাদের দফতর। যে কোনও একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দফতর থেকে অপর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দফতরে প্রস্তাব পেশ করা হয়। সেই দফতর সংশ্লিষ্টমহলের সঙ্গে আলোচনা করে বৈঠকের সম্মতি দিলে রাষ্ট্রপ্রধানের দফতর থেকে দুইয়ের বৈঠকের দিন নির্ধারিত হয়। এই ফর্মূলা অনুসারে, বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধানের দফতর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকের প্রস্তাব পেশ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে। সেটা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে কোনও বৈঠকের প্রয়োজন নেই।
এটা থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট, ইউনূস সরকারের ভূমিকায় মার্কিন প্রশাসন একেবারে না খুশ। এই সরকারে থেকে তাদের কিছু প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা তারা পূরণ করতে পারেনি। তাই, ইউনূস সরকারের হাতে পেন্সিল, থুড়ি লালিপপ তুলে দিল।












Discussion about this post