বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস এখন নিউ ইয়র্কে রয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিষয় থাকবে অবশ্যই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন। এই নির্বাচন এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার কারণ নির্বাচিত সরকার না এলে মিয়ানমারের দখলদারির জন্য বাংলাদেশকে যে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, সেটা পাওয়া সম্ভব হবে না। এমনকি আমেরিকার নজর চট্টগ্রাম বন্দরের দিকেও। সেটাও নেওয়া সম্ভব হয় না। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নৌ ঘাঁটি তৈরিটাও হয়ে উঠবে না। কারণ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বেঁকে বসেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এই সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারবে না। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, খলিলুর রহমানকে দিয়ে এই কাজগুলো ইউনূস করিয়ে নেবেন। তাই প্রথম দিকে নির্বাচন নিয়ে কোনও মাথা ব্যাথা ছিল না। এদিকে ক্ষমতায় থাকার টোপ দিয়ে নিজেদের দলে টেনেছিল আমেরিকা। কিন্তু পুরোটাই বানচাল হয়ে যায় জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের জন্য। অনেকেই বলছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের আশঙ্কায় সত্যি হয়েছে। ইউনূসের নজরে চট্টগ্রাম ও সেন্টমার্টিন। যেটা আমেরিকার হাতে তুলে দিতে চায় ইউনূস। তাই এখন সেই পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়ে শেখ হাসিনাকে পাশে চাইছে ওয়াকার। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরে পরিস্থিতি বদলে যেতে নির্বাচন করাতে চান মুহাম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, তিনি সময়ও দিয়ে দেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। আমেরিকার পরিবর্তিত যে ছক, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ নিতে দেওয়া হবে না। তারপর বিনা আওয়ামী লীগ নির্বাচন হবে এবং জিতবে বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় এলেই আমেরিকার স্বার্থসিদ্ধি হবে। এটারই অংশ হিসাবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক। এমনকি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি এন্ড জ্যাকবসন লন্ডনে গিয়ে তারেকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরমধ্যে এনসিপির মধ্যে ভাঙ্গন ধরেছে। একদল গিয়েছে আমেরিকার দিকে এবং একদল গিয়েছে চীনে। আওয়ামী লীগ শুন্য মাঠে বিএনপি জামাতের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। ডাকসু, জাকসুতে তার প্রমাণ। ওইদিকে আবার আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বহিঃ বিশ্ব থেকেও আওয়াজ উঠছে, আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভোট করতে হবে। এরমধ্যেই আমেরিকা নতুন চালে আওয়ামী লীগ বিরোধী শকতিগুলিকে সক্রিয় করছে। কারণ আওয়ামীলীগ জিতে গেলে আমেরিকা থেকে স্বার্থপূরণ হবে না। অন্যদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। তিনি বিএনপির সঙ্গে যেতে পারেন। কারণ বিএনপি ঠিক করে রেখেছে, আমেরিকার কাছে সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে দেবে। তাই বিএনপিকে টার্গেট করছে তারা।
অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান চাইলে, যে কোনও মুহূর্তে ইউনূসের গদি উল্টে দিতে পারেন। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তিনি সেটা চাইছেন না। এমনকি ওয়াকারও চান অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হোক বাংলাদেশে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াকার জামান করতে পারেন সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে জরুরি অবস্থা করার জন্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন। আগাম অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য একটি নতুন সরকার গঠন করতে পারেন। কিন্তু সেনাপ্রধান সেগুলি এখন নাও করতে পারেন। তার কারণ সেনাবাহিনীর মধ্যে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে একাধিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল ওয়াকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেগুলি তিনি রুখে দিয়েছেন। অনেকে বলছেন, যতদিন বর্তমান রাষ্ট্রপতি থাকবেন, ততদিন ওয়াকারকে কেউ সরাতে পারবে না। বরং উল্টে ইউনূস যে পরিকল্পনা করছেন, সেটা বানচাল করে দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এবং দেশের স্বার্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাইছেন ওয়াকার। এখন দেখার, বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে ধাবিত হয়!












Discussion about this post