বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন ফখরুল। যা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি তোলপাড়। তিনি শুধু জামায়াতি ইসলামী নিয়ে নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুধু তাই নয়, তিনি আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের অংশ হিসাবে দেখতে চান বলেও তিনি জানিয়েছেন। অথচ একটা সময় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে। এখন তার পাল্টে যাওয়া বয়ান নিয়ে রাজনৈতিক আঙিনায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, বিএনপি আর জামায়েতকে মাথায় তুলবে না। অর্থাৎ এতদিন তারা যে রাজনীতি করেছে, সেটা যে ভুল পথে ধাবিত হয়েছে, সেটা বুঝেছেন তিনি। অন্যদিকে জব্দ হয়েছে জামায়েত ইসলামী। তবে কি আওয়ামী লীগের এক্ষেত্রে বিশেষ কোনও বার্তা থাকবে?
রাজনীতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা বিএনপির বুঝতে দেরি হয়ে গিয়েছে। এমনকি ফখরুল বলেন, জামায়েত বিএনপির কাছে ৩০ টি আসনের দাবি করেছিল। যেটা মেনে নেওয়া হয়নি। এখন থেকেই আসলে বিরোধিতার সূত্রপাত। এদিকে এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে জামায়াতি ইসলামী। বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হয়নি বলে দাবি তাদের। ফলে দুই দলের মধ্যে অবিশ্বাসের দেওয়াল আরও উঁচু হয়েছে। ফখরুল বলে, বাংলাদেশের বহু দলীয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নেই। অথচ একই বিএনপি আওয়াজ তুলেছিল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য। এই পরিবর্তন কেবল বক্তব্য নয়, এটা একটি কৌশল। কারণ ভারত কখনো চাইবে না আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন হোক। ভারত এর আগেও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইনক্লুসিভ নির্বাচন চায়। কারণেই ভারতের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই বার্তা। তারাও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাইছে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হল, কেন বিএনপির মহাসচিব ভারতের একটি গণমাধ্যমে গিয়ে এমন বক্তব্য রাখলেন? কেন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই বক্তব্য না রেখে, ভারতের গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য রাখলেন? বাংলাদেশ সহ উপ মহাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। বিএনপি বরাবর ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছে। কিন্তু হঠাৎ তাদের এই অবস্থান বদল, প্রশ্ন তো উঠছেই। তবে কি ভারতের সঙ্গে সেতুবন্ধন করতে চাইছে বিএনপি? এমনকি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে বিএনপি কখনই আপস করবে না। ভারতের আস্থা অর্জনই হবে বিএনপির লক্ষ্য।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোণ ঠাসা হয়ে রয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়েতি ইসলামির ভাবমূর্তি বর্হি বিশ্বে অত্যন্ত খারাপ। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছাকাছি যেতে জামায়াতি ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি’র দূরত্ব তৈরি করতেই হবে। তাই বিএনপির বক্তব্য, শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও একটি স্পষ্ট বার্তা। এমনকি ফখরুল ইসলাম তার সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কোনভাবেই সম্ভব নয়। এমনকি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা একা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাজনীতি করে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে এটাই কূটনৈতিক চাল। একদিকে কড়া সমালোচনা করছেন, একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথাও বলছেন। ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগকে বোঝায়। এবং তার বিরোধী দল হিসেবে নেতৃত্ব দেয় বিএনপি। অন্যদিকে আমেরিকা, নানা রকম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেও, তারা নিজেদের পছন্দের মত রাজনৈতিক দলকে মসনদে বসায়। সেই কারণেই বিএনপি ভারতের কাছাকাছি যেতে চাইছে।
তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভারতীয় গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকার ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল বলছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থা ভঙ্গুর। সেই কারণেই বৈদেশিক শক্তির কাছে দৌড়াচ্ছে বিএনপি। তবে বিএনপি বুঝেছে, ক্ষমতায় গেলে ভারতে অস্বীকার করা যাবে না। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন করলে মানুষ ভালো চোখে দেখবে না। বর্হি বিশ্বেও অন্য বার্তা যাবে। তাই এমন বক্তব্য খুব কৌশলে রেখেছেন বিএনপির মহাসচীব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর।












Discussion about this post