আওয়ামী লীগ অনেক আগেই অক্সিজেন পেয়েছিল। এবার সেই অক্সিজেনের ডোজ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। রাজধানীর নানা প্রান্তে পথে নামলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থক। দল এবং দলের অঙ্গ সংগঠনের ২৪৪ জন নেতা কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী গ্রেফতার হওয়া নেতা-কর্মীদের থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১৪টি ককটেল, সাতটি ব্যানার। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এই তথ্য পেশ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইসলাম বলেন, এর আগে ডিএমপির ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হচ্ছ, আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনও অবনতি না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যেই সব অঞ্চল থেকে ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গিয়েছে, সেই সব এলাকগুলি হল রাজধানীর উত্তরা, ফার্মগেট, তেজগাঁও, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালঞ্জ। ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ। তিনি আরও বলেন, ঝটিকা মিছিল এবং অতৎপরতাকারীদের পেছনে দেশ ও বিদেশ থেকে অর্থের জোগান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর হোটেল,ছাত্রাবাস ও ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগের কোনও নেতাকর্মী থাকলে নগরবাসীকে বলা হচ্ছে তারা যেন দেরি না করে পুলিশকে খবর দেয়। যারা তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে, পুলিশ তাদের পরিচয় গোপন রাখবে।
অনেক আগেই তদারকি সরকারের কানে খবর যায়, হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের শোডাউন করতে চলেছে। অনেকটাই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মতো। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সেই শো ডাউন সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, পুলিশ সব জায়গায় তাদের রুখতে পারেনি। দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে তারা বড় ধরনের একটি কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে। সেই খবর পাওয়ার পরে পরে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। রাজধানীর কাছাকাছি গুলিস্তান, ফার্মগেটসহ কয়েকটি এলাকায় নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ২টোর দিকে গুলিস্তান, ফার্মগেট সহ কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও পান্থপথ এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ মিছিল করেছে বলে খবর। তেজগাঁওয়ের মিছিল থেকে ৫০জনের বেশি নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে খবর দিয়েছে তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন।
উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘রাজধানীর ফার্মগেট, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের পাশে জলভবনসহ তেজগাঁও এলাকায় আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ সংগঠন একাধিক মিছিল করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ওই সব এলাকায় তৎপর রয়েছে।’
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গুলিস্তানের বায়ুতুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্লাজা সামনে থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর মিছিল নিয়ে ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের দিয়ে যাওযার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। দলের এই সব কার্যক্রম থেকে স্পষ্ট সরকার আওয়ামী লীগকে যেভাবেই রোখার চেষ্টা করুক না কেন আওয়ামী লীগ সেই সব বাধা সর্বশক্তি দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করবে। তার জন্য প্রয়োজন হলে তারা জীবন বাজির রাখতেও প্রস্তুত। কমিশন আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশগ্রহণের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post