এক ডিমকাণ্ড ঘুরিয়ে দিয়েছে হাওয়া মোরগের ঝুঁটি। আর বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এমনীতে মির্জা ফখরুল আলমগীরের কলকাতার একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকার বাকি দুইদলের মেজাজ বিগড়ে দিয়েছে। তারওপর নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দর থেকে তদারকি সরকার প্রধান যেভাবে বাকিদের রেখে নিজে সেফ এগজিট দিয়ে বেরিয়ে গেলেন, তাতের তার সফরসঙ্গীরা রীতিমতো অসন্তুষ্ট। তাদের বক্তব্য নিমন্ত্রণ করে ইউনূস তাদের বিপদে ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন। ইউনূস বিশ্বাস করেন য পলায়তি স জীবতি তত্ত্বে। তাদের মতে, মহম্মদ ইউনূস তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে হাতিয়ার করেছেন। ড. মহম্মদ ইউনূস যাদেরকে তাঁর সরকারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সেই অন্তর্ভুক্তির পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল। সেটা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেটা হল সব ঝুট ঝামেলার দায় তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে নিজেকে আড়াল করতে পারবেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে, ঘটনায় তদারকি সরকার গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভিভিআইপি প্রবেশাধিকার এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা সেই নিরাপত্তা দিতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে জড়ো হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের সঙ্গে ছিল দলটি অঙ্গ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা। মির্জা ফখরুল আলমগীর এবং হুমায়ূন কবির পাশাপাশি হেটে পার্কিং স্পেশের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় স্লোগান। বিএনপির দুই নেতাকে অনুসরণ করছিলেন এনসিপির আখতার হোসেন এবং তাসনিম জারা। বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভের বহর দেখে তারা রীতিমতো থতমত খেয়ে যান। আচমকাই তাদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। দুটি আখতার হোসেনের পিঠে লেগে ফেটে যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের রাতে একটি বেসরকারি হোটেলে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি পরে তিনি শুনেছেন। এটি হতাশা বা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনও ঘটনা নয়। তবে বাংলাদেশের জন্য এটি বেশ লজ্জাজনক। এখানে যারা একটি করেছে তারা নিজেরাই নিজেদের অপমান করেছে। তারা বাংলাদেশকেও অপমান করেছেন।
বেশ মজার বিবৃতি। এত বড়ো একটা ঘটনা ঘটল। গোটা বিশ্ব জেনে গেল। আর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ শুনলেন অনেক পড়ে। মানে খবরটা গোরুর গাড়িতে চেপে সেই হোটেলে যাচ্ছিল যে হোটেলে তিনি উঠেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ইউনূস যাদের নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছে, তারা আসলে ছিল তাঁর (ইউনূসের) বর্ম বা হেলমেট। যদি কিছু ঘটে, তাহলে তাঁর আঁচ গিয়ে পড়বে তাঁর সফরসঙ্গীদের ওপর। আর তিনি নিশ্চিন্তে নিরাপদে অকুস্থল থেকে চলে যেতে পারবেন। অনেকটা সেফ প্যাসেজের মতো। এটা শুধু জামায়াত বা এনসিপির মত নয়, এই প্রশ্ন আওয়ামী লীগের। সবাই এখন একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন – ইউনূস যাদের আমেরিকা নিয়ে গিয়েছেন, তারা আসলে তাঁর বডিগার্ড। একা গেলে সমূহ বিপদে পড়বেন সেটা আগে থেকেই ইউনূস জেনে গিয়েছেন। তাই জেনে শুনে কেন হাঙরের মুখে পড়বেন। তাই, হাঙরের মুখে তাদের ঠেলে দিলেন যাদের ইউনূস নিয়ে গিয়েছিলে। সন্দেহটা আরও গাড় হয়েছে আরও একটি কারণে।
ইউনূস যাদের আমেরিকা নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা উঠেছেন একটি হোটেলে। আর ইউনূস যে হোটেলে উঠেছেন, সেই হোটেলে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আসিফ নজরুল এবং সফিক।












Discussion about this post