বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মালয়েশিয়া গিয়েছেন। সেখানে শুরু হয়েছে ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় আলোচনা। সেখানে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও গিয়েছেন। সেখানে ওয়াকারের সঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদী বৈঠক করেন। সেখানে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে ব্যাপারে সরকারিভাবে এখনও (এই খবর লেখা পর্যন্ত) পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার মারফৎ শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। শেখ হাসিনাকে ওয়াকার জানিয়েছেন, তাদের সেনা খুব তাড়াতাড়ি ব্যারাকে ফিরে যাবে। আমরা আর কোনও দায়িত্ব নিচ্ছি না। গোপালগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনা বিতর্কের মুখে পড়েছে। আমরা আর নতুন করে কোনও কিছুর ভাগীদার হতে চাইছি না। আর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সেনার কাজ নয়। সেনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমরা ১৪ মাস মাঠে ছিলাম। আর আমরা রাস্তায় থাকতে নারাজ। সবাই ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাব। আগামীদিনে সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, সেটা সরকার বুঝবে।
জবাবে হাসিনা ওয়াকারকে বলেন, যা করবা ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা কইরা করবা (যা করবে, সেটা ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা করে করবে)। এখন এই আলোচনার পটভূমি কী, এই আলোচনা থেকে কী নির্যাস বেরিয়ে এল, সেটা সময় হলেই জানা যাবে। এবার পটভূমি।
পটভূমি কিন্তু নিউ ইয়র্ক। সেখানে গিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। আর তাঁর সঙ্গে গিয়েছেন জামায়াত, বিএনপি, এনসিপির কয়েকজন ধামাধারি। ইউনূস প্রথমে দেখা করেন সার্জিও গোরের সঙ্গে। কে এই সার্জিও গোর? ইনি ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেতে চলেছেন বলে খবর। সেটা সাউথব্লকের কানে গিয়েছে। সাউথব্লক কিন্তু তার জন্য ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। সেটা হল, উঠল বাই তো কটক যাই আর হবে না। মানে, ইচ্ছে হলেই সাউথব্লক চলে যাওয়া, নর্থব্লক চলে যাওয়া – পার্লামেন্ট স্ট্রিট চলে যাওয়া – এসব হবে না। খবর তেমনই। যেতে গেলে ভারতের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে অনুমতি নিতে হবে। ইউনূসও সেই খবর পেয়েছেন। তাই, তড়িঘড়ি তিনি সার্জিও গোরের সঙ্গে দেখা করেন। সূত্রের খবর, গোরকে তিনি বলেছেন, সেভেন সিস্টারের আমরাই অভিভাবক। আমাদের ছাড়া নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা অচল। তার কারণ, কোনওরকমে একটা উত্তেজনা তৈরি করা। মূল উদ্দেশ্য ভারতকে উস্কে দেওয়া। কারণ, ভারতকে উস্কে দিলে ভারত ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং আমেরিকা তখন পরিত্রাতার ভূমিকা নেবে। বহুদিন আগে আমাদের সেনাপ্রধান বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে বলেছিলেন, আমরা চাইনা আমাদের সেনার গুলি আপমনাদের একজন নাগরিকের বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যাক। আমরাই সেই সেনা, যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল। আমেরিকা কিন্তু চাইছে ওই সেভেন সিস্টারের ঢুকতে। আর ভারত-চিন-রাশিয়া চাইছে ওরা আগে আক্রমণ করুক। আসলে একটা কূটনৈতিক খেলা চলছে।
ইউনূস আরও একটি কাজ করেছেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক করেছন। গোরকে বলেছন, তিনি আগামীদিনে ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, এরা থাকবেন। এবং এরা আমেরিকার স্বার্থ পূরণে সাহায্য করবে। অর্থ, শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে ভোট করলে আখেরে আমেরিকার লাভ। কারণ, এরা থাকলে আমেরিকা নানা দিকে থেকে উপকৃত হবে। জামায়াত-এনসিপি-বিএনপি ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দল গঠন করে সরকার চালাবে। আমেরিকার প্রতিটি স্বার্থ সিদ্ধি দেবে। আর ভারতকে উস্কাতে সাহায্য করে যাব।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post