এটা কাকতালীয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে ঘটনা তো অস্বীকার করা যায় না।
কী সেই ঘটনা, তা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধানের বিমান যখন মাঝ আকাশে, সেই সময় বাংলাদেশের হাওয়া অফিস একটি পূর্বাভাস দিয়েছিল। সে দেশের আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুই দিনের ব্যবধানে সাগরে দুটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। একটি যেদিন এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল, দ্বিতীয়টি ২৪ সেপ্টেম্বর। এখনও নিম্নচাপ তৈরি হল কী হয়, তা আমাদের সকলের জানা।
নিম্নচাপ মানেই দুর্যোগ। বৃষ্টি হবেই হবে। গভীর নিম্মচাপ হলে ভারী বৃষ্টি, সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গীসাথীরা সেই ঝড়কে টেনে নিয়ে গিয়েছেন সোজা হাডসন নদীতে। নিয়ে গিয়েছেন বললে কিছু বলা হবে না। নিয়ে একাবের হাডসন বে-তে আছাড় মেরেছেন। ফলে, নিউ ইয়র্ক তোলপাড়। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে যায়। বিএনপি কর্মী সমর্থকেরা সংখ্যা কম থাকায় তারা এঁটে উঠতে পারেনি। তবে ইউনূসের নিউ ইয়র্ক সফর এবং কমিটি গঠন নিয়ে দলের মধ্যে চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে। ইউনূসকে বাঁচাতে মাঠেই নামেনি একদা মিত্র জামায়াত। আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখে ইউনূস এবং তাঁর সখাদের চোখ চড়কগাছে উঠেছে। তারা নিউ ইয়র্ক পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ কনস্যুলেট এবং ফরেন সার্ভিসের সাহায্য চেয়েছে। ফরেন সার্ভিস জানিয়ে দিয়েছে,আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আগত রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্র প্রতিনিধিদের যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে, তারা সেই নিরাপত্তাটুকুই পাবেন। এর বেশি কিছু না। ইউনূসের সফর সঙ্গীদের ফরেন সার্ভিসের দফতর থেকে বলা হয়েছে, তারা যেন ভুলেও হোটেলের বাইরে ভীষণ প্রয়োজন না হলে পা না রাখেন। আওয়ামী লীগ যেভাবে মাঠে নেমেছে, তা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট ইউনূসকে নাকের জলে চোখের জলে করিয়ে ছাড়বেন। ফলে, ইউনূস এবং তার সঙ্গীদের বাকিদিন হোটেলে কাটাতে হয় কি না, সেটাই প্রশ্ন।
আসলে মার্কিন যাত্রার সূচনালগ্ন থেকেই বিতর্ক ইউনূসকে তাড়া করে বেরিয়েছে। ইউনূস তাঁর মার্কিন সফরে বিএনপি থেকে দুজনকে নিয়েছিলেন। জামায়াত ও এনসিপি থেকে নিয়েছিলেন একজন করে। তাতে এই দুই মিত্র বেজায় অসন্তুষ্ট। তাঁরা চলে গিয়েছিল গোঁসা ঘরে। তাদের মান ভাঙাতে জামায়াত এবং এনসিপি থেকে আরও একজন করে দুইজনকে নেওয়া হয়।
এদিকে, ইউনূসের সফর ঘিরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, ড. ইউনূসকে নিউ ইয়র্কে ‘প্রতিহত’ করা হবে। তিনি জানান, ২২ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। কনস্যুলেট হামলার ঘটনায় কোনো নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপি মহাসচিবসহ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন সভা করে তারা কর্মীদের করণীয় জানাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘আমরা ২২ তারিখে বিমানবন্দরে এবং ২৬ তারিখে জাতিসংঘের সামনে অবস্থান নেব। আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খলা করলে তারা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকেও বিতাড়িত হবেন।’












Discussion about this post