একটা দলের শীর্ষ নেত্রীকে বিমানে চ্যাংদোলা করে তুলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এবং তাঁর দল যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপর দিকে আন্তর্জাতিকমহলের মন জয় করতে তদারকি সরকার কত কাঠখড় না পুড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের মিছিল করার খবর পেলেই পুলিশ কোমরে বেল্ট টাইট করে দৌড়াচ্ছে। একদিনে রাজধানী থেকে পুলিশ আওয়ামী লীগের ২৪৪ জন কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে,ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৫০ জনকে, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ২৭জনকে, ডিএমপির তেজগাঁও পুলিশ ১০০ জনকে, রমনা বিভাগ ৫৫ জনকে, গুলশান বিভাগ পাঁচজনকে মিরপুর বিভাগ চারজনকে, উত্তরা বিভাগ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন মো নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অর্থ জোগান দেওয়া আশ্রয় দেওয়া এবং লোক সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। আর আগে ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ’
এত ধরপাকড়ের পরেও পুলিশ ও প্রশাসন নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না। সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের শীর্ষকর্তা কার্যত নতিস্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, আওয়ামী লীগের এত কর্মী-সমর্থক রয়েছেন, যে তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় দুঃসাধ্য।
তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির বলেছেন, আওয়ামী লীগের কেউ যাতে জামিন না পায়, সে চেষ্টা চলছে। বুধবার তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় মিছিল বাড়বে। প্রচুর মিছিল হবে। কিন্তু এই ধরনের মিছিল হবে না। সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারকে পকেটস্থ করেও সরকার কূল কিনারা করতে পারছে না।
প্রশ্ন হল সরকার, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এমন দিশেহারা ভাব কেন?
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছেন, পুলিশের হাতে এসেছে গোয়েন্দা রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে,আগামীদিনে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি নিতে চলেছে আওয়ামী লীগ। সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা এখন বলছেন, সব থেকে বড় ভুল করেছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেটা না করলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে যেত না।
২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে খবর আসে, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে বড় ধরনের শো-ডাউন করবে। মিছিল শুরু হবে আগারগাঁও থেকে ধানমণ্ডীর ৩২ নম্বরে শেষ হবে। পুলিশের কাছে আওয়ামী লীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের একটি মেসেজ আসে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেক প্রাক্তন এমপিকে নিজ নিজ এলাকায় দলের পাঁচশো থেকে ছশো কর্মী-সমর্থককে জড়ো করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, আগারগাঁও থেকে মিছিল শুরু হবে, শেষ হবে ধানমন্ডীর ৩২ নম্বরে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই সব এলাকায় আগেই পৌছে যায়। পুলিশ বিএনপি যুবদল এবং ছাত্রদলের সাহায্য চায়। তাদের সাহায্যে পুলিশ এতজনকে গ্রেফতার করে। যদিও একটি সূত্রে বলছে, এদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ পথচারী হকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post