রবীন্দ্রনাথের এই গানটা নিশ্চই সকলের জানা
জাগরণে যায় বিভাবরী। গানের সামান্য কয়েকটি ছত্র এখানে তুলে ধরি
যার লাগি ফিরি একা একা/ আঁখি পিপাসিত, নাহি দেখা/তারি বাঁশি, ওগো, তারি বাঁশি/তারি বাঁশি বাজে হিয়া ভরি /মরি মরি / জাগরণে যায় বিভাবরী
গানের ব্যাখ্যা এইরকম-
জাগতিক দুঃখ-কষ্টের মাঝেও ঈশ্বরের প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং ভক্তির মাধ্যমে শান্তি ও আশ্রয় খুঁজে পাওয়ার গভীর অনুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে এই গানে। গানটিতে বক্তা জাগরণের মাধ্যমে দীর্ঘ, যন্ত্রণাময় রাতকে অতিক্রম করে ঈশ্বরের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছেন, যেখানে জাগতিক সব কিছু ম্লান হয়ে যায় এবং কেবল ঈশ্বরই সত্য ও আশ্রয়। কিন্তু ইউনূসের ক্ষেত্রে গানটার অর্থ অন্যরকম। ইউনূস শয়নে-স্বপনে-জাগরণে হাসিনাকে দেখছেন। একটা হাসিনা ফোবিয়া কাজ করে চলেছেন। মাঝখানে দিল্লি এবং পিণ্ডি।
যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি পর্যালোচনা করেন, তারা বুঝতে পারছেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির পিচে একের পর এক ব্যাটসম্যানের পতনের পিছনে কাজ করছে আমেরিকা। আসলে আমেরিকার কূটনীতির এটা একটা অঙ্গ। স্বার্থে ঘা লাগলেই হোয়াইট হাউস যে কাউকে কাগজের মতো দলা পাকিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তারা একই কাজ করেছে। এবার দেখা যাক আমেরিকার এই কূটনীতির (খুত নীতি বা বলে কাতনীতি বলাই ভালো) পিছনে কাজ করছে একটি অর্থচক্র। খুতনীতি বলার কারণ রয়েছে। যেন-তেন-প্রকারেন কোনও একটি দেশের খুঁত বের করে দেশটিকে রাজনৈতিকভাবে অস্থির করে তোলা। আর সেই খুঁত ধরার কোনও দরকার তাদের পড়ে না যদি তাদের অর্থস্বার্থে ঘা না লাগে।
এখন দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিন। তারা একটি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুতরাং, হোয়াইট হাউজের লক্ষ্য তাদের মিত্র দেশ। ভারত তার মধ্যে অন্যতম। ভারতের সাহায্যে তারা বাংলাদেশের একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছে। আমেরিকা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা আপাতত আর ভারমুখী হবে না। তাদের সব নজর বাংলাদেশের ওপর। তার জন্য একটা বলয় তৈরি করতে হবে। হাসিনা সাফ জানিয়ে দেয়, তিনি সেন্ট মার্টিন দেবেন না। তাতেই চটে যায় আমেরিকা। তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। মুশকিল হল, ইউনূসের থেকে যা পাবে বলে আমেরিকা আশা করেছিল, সেই আশা তাদের পূরণ হয়নি। হাতে আর মাত্র কয়েক মাস। এই ক মাসে সেটা কোনওভাবেই পূরণ হবে না। তাই, এবার তারা পাল্টি খেতে শুরু করেছে। এখন তাদের নীতি ইউনূস হঠাও, হাসিনা লাও।
তাতে সমস্যায় পড়েছেন ইউনূস। তিনি জানেন এবং নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে হাসিনা ক্ষমতায় ফিরছেন। সুতরাং, তিনি ক্ষমতায় ফিরলে তাঁর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠবে। যে আমেরিকা একসময় তাকে মদত দিয়ে আসছিল, সেই আমেরিকা এখন তাঁর পাশে নেই। পাশে নেই জামায়াত এনসিপি। তাই, ইউনূস এখন শয়নে স্বপনে জাগরণে হাসিনাকে দেখছেন।
ব্যাপারটা এরকম – হাসিনা জ্ঞান, হাসিনা ধ্যান, হাসিনা চিন্তা মণি, হাসিনা ছাড়া আমি যেন মণি হারা ফনী। ইউনূসের সেই সোনাঝড়া দিন আর নেই। রাতেও আকাশে তিনি চাঁদ দেখছেন, দিনেও দেখছেন। দেখতে না পেলে দূরবীন নিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আর দূরবীন নিয়ে চাঁদ খুঁজতে গিয়ে ইউনূস দেখছেন হাসিনাকে। এমন বিড়ম্বনায় কোনওদিন পড়তে হবে সেটা আন্দাজও করতে পারেননি।












Discussion about this post