জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম ছোড়ার ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান। যদিও তাঁকে কিছুক্ষণ পরই ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, তাঁকে কুইন্স কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্ট তাকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাতের দিকে জামিনে মুক্তি দেয়। এর পরই আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। সেই সঙ্গে চলে স্লোগান ও আনন্দ উল্লাস। একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হলেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মিজানুরকে ফোন করে অভিবাদন জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম ছুড়ে এখন রীতিমতো হিরোর মর্যাদা পাচ্ছেন যুবলীগ কর্মী মিজানুর রহমান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আখতরেকে হেনস্তার পর মিজানুরের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছিলেন মার্কিন মূলূকের এক ছাত্রদল নেতা। যদিও আখতার হোসেন এবং তাসনিম জারা পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়ন নেতা তথা মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীরও একই সাথে বিমানবন্দর থেক বের হয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি নেতাকে কেউ হেনস্থা করেননি। এমনকি তাঁকে যাতে কেউ আঘাত না করেন, সেটাও বলতে শোনা গিয়েছে বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিওতে। তবুও ছাত্রদল নেতার ওই মামলায় পরই মিজানুরকে গ্রেফতার করেছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ। কিন্তু গুরুতর কোনও প্রমান না পাওয়ায় তাঁর জামিন হয়ে যায়। তবে জামিনের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা বিএনপির ছাত্রদল নেতা জাহিদ খানকে তিনি চেনেন না বলেই দাবি করেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আখতারের ঘটনার কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে ও ভিডিও করে কথা বলার পর আবেগতাড়িত মিজানুর পরে বলেন, যারা কাজকর্ম ফেলে দীর্ঘসময় কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের প্রত্যোককেই আমার প্রণাম। তিনি এও জানান, এই লড়াই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যাবসানের লড়াই।
মিজানুর আরও জানান, গত ১৪ মাস ধরে দেশে আওয়ামী লীগের সাড়ে ৪ কোটি নেতাকর্মীদের মুখে হাসি না। গতকাল আমাদের কারণে ১৪ সেকেন্ডর জন্য হলেও তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। জানা যাচ্ছে, সিলেট জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তার বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ তাঁকে আটকের পরও ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টার সময় তিনি ফেসবুকে লেখেন- ‘আমি কারাগার থেকে বলছি, শেখ হাসিনার কর্মী মিজানুর রহমান চৌধুরী। জয় বাংলা’। এই মুহূর্তে মিজানুরকে জাতীয় হিরো বলেই আখ্যা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে হিরো হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এই ঘটনা এনসিপিকে অনেকটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দিল।












Discussion about this post