দিন দিন বেড়েই চলেছে আওয়ামী লীগের মিছিল। ঢাকায় হাসিনার দলের ঝটিকা মিছিল ঘিরে ক্রমশ পারদ চড়ছে বাংলাদেশের রাজনীতির। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগের মিছিল কেন হচ্ছে, কেন আাগাম খবর পাওয়া যাচ্ছে না মিছিলের ব্যাপারে, সেটা নিয়েও তিনি অগ্নিশর্মা হয়েছিলেন। এও জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের মিছিলকে প্রতিহত করতে না পারা এবং আগাম খবর সংগ্রহ করতে না পারার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। জানা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মীদের সন্ধান চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। যারা বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা রাডনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের তথ্য দেবেন, তাঁদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পুলিশ। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে আর্থিক পুরস্কারও থাকছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট-সহ কয়েকটি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল করেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে ১৪টি ককটেলে, ৭টি ব্যানার-সহ ২৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শুনিয়েছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পৃথিবীর একমাত্র পুলিশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ যারা কোনও রাজনৈতিক দলকে ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার বলেই উল্লেথ করছে। সেই রাজনৈতিক দল যতই নিষিদ্ধ হোক না কেন, তাঁদের সাংবিধানিকভাবে স্বৈরাচারী বলা যায় না। তবে যে হেতু প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর দোসররা আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচার আখ্যা দিচ্ছেন, সে হেতু পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তাঁদের ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী বলছেন।
প্রথমেই বলেছি, পর পর কয়েকটি জরুরি বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস এবং কয়েকজন উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। ওই বৈঠকেই তাঁরা ঢাকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেটা একটু লক্ষ্য করলেই আপনারা দেখবেন, ডিএমপি-র অতিরিক্ত কমিশনার-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের মুখের ভাষা। দেখে মনে হবে কেমন যেন একটু জড়তা ও ভয়ের পরিবেশ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের এই ঝটিকা মিছিল সামলাতে ব্যর্থ ঢাকা পুলিশের অসহায়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাঁরা কার্যত ঢাকাবাসীর দ্বারস্থ হচ্ছেন। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ‘তাদের গ্রেফতার করলে পরবর্তীতে ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা কমে যাবে। যারা তথ্য দেবে তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
ঢাকা পুলিশ যাই বলুক না কেন, বিগত এক মাসে ঢাকা-সহ আশেপাশের এলাকাগুলিতে আওয়ামী লীগের ৭০টির বেশি মিছিল হয়েছে। সেই মিছিলের বহর দিন দিন বাড়ছে। অসংখ্য সাধারণ মানুষ সেই মিছিলে যোগদান করছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ঢাকা পুলিশের এই আহ্বানে কি সাড়া দেবেন ঢাকাবাসী?












Discussion about this post