আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাজউদ্দিনের পুত্র সোহেল তাজ নানাভাবে আলোচিত এবং সমালোচিত। বহুবার তাকে ঘেরা নানা ঘটনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ফের তিনি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাকে দেশ ত্যাগ করতে দেওয়া হয়নি। তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। হঠাৎ করে কেন তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হল না সেটা ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। সাম্প্রতিক সময় দেখা গিয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার বিরোধ একেবারে তুঙ্গে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তারপরও তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হল কেন? কেন তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হল? যিনি ইউনূসের আস্থাভাজন নামে পরিচিত, তাকেই আটকে দিল কর্তৃপক্ষ? প্রশ্ন উঠছে।
হঠাৎই সোহেল তাজকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। জানা যায়, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে ঢাকা বিমানবন্দরে তাকে আটক দেওয়া হয়েছে। অনেক গণমাধ্যম খবর করছে, ভ্রমণরোধ থাকায় সোহেল তাজ দেশত্যাগ করতে পারেনি। জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালে গাজীপুর চার আসন থেকে তিনি প্রথম নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ফের নির্বাচিত হন। তখন তাকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি এই দায়িত্ব পালন লাভ করেন। ৩১ শে মে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১২ সালে ২৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সময় প্রক্রিয়াগত ভুলের কারণে সেটা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে ৭ জুলাই পদত্যাগ পত্র পেশ করা হলে সেটা গৃহীত হয়। অর্থাৎ তিনি আর সংসদ সদস্য ছিলেন না। পরবর্তীতে আর রাজনীতি করেননি। কিন্তু হঠাৎ করেই বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হল কেন তাকে? প্রশ্ন উঠছে। অনেকে বলছেন, সোহেল তাজকে দেখা গিয়েছে, এই সরকারের ঘনিষ্ঠ হতে। কয়েকদিন আগেও প্রধান উপদেষ্টা দপ্তরে গিয়ে ছিলেন।
অনেকেই সমালোচনা করছেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করার জন্য আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু.. মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক কথা বলেছেন। যেগুলি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিতর্কিত বলেছেন। তারপরই দেখা যাচ্ছে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ট সোহেল তাজ। এদিকে জানা যাচ্ছে, সোহেল তাজকে ইমিগ্রেশন থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে তার দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যপারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে আর কোনও কারণ রয়েছে কিনা, সেটা হয়তো পরে বেরিয়ে আসবে। তবে এই নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনার আমলকে অনেকে স্বৈরাচার সরকার বলে অ্যাখায়িত করে থাকেন। কিন্তু আদতে তার আমলে যা যা ঘটেনি, এই ১২ থেকে ১৩ মাসে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনা ঘটে গিয়েছে। যা ঘিরে বিভিন্ন সময় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।












Discussion about this post