কয়েকদিন আগের কথা। ইউনূস তখনও আমেরিকা যাননি। যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় আমরা দেখলাম তদারকি সরকারের প্রধান ভারতের জন্য আম পাঠিয়েছেন। ইলিশ পাঠিয়েছেন। তবে ইলিশের পরিমাণ গতবারের থেকে অনেকটাই কম। তবুও এসেছে। তারপর পাঠালেন চিনিগুঁড়া চাল। আর যেই আমেরিকা গেলেন, তখন তাঁর গলার সুর বদলে গেল। ভারতের বিরুদ্ধে গাল পাড়ছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তিনি ভারতকে দায়ী করেছেন। ভারতের সম্ভাব্য রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের পরেই তার গলা খাদ থেকে একেবারে তার সপ্তকে পৌঁছে গিয়েছে। কী এমন হল, সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকেও বা কী নিয়ে কথা হয়েছে? তবে কি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ কোনও বার্তা তিনি পেয়েছেন?
বুধবার এশিয়া সোসাইটি ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইন্সটিটউট আয়োজিত এক সভায় ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তদারকি সরকার প্রধান। তিনি সরাসরি আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর সরাসরি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা সবাই উপকৃত হব। তাই, এই নিয়ে ভাবা উচিত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমস্যা চলছে। কারণ, ছাত্ররা যেটা করেছেন, ভারত সেটা পছন্দ করেনি।
তাঁর কথায়, ‘‘ছাত্ররা গত বছর যা করেছে সেটি ভারত পছন্দ করেনি। এ কারণে ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা রয়েছে। ভারতীয় মিডিয়াগুলোর ভুয়া খবর পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ভারত থেকে অনেক ভুয়া খবর আসছে। তারা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে যে গত বছরের গণবিপ্লব ছিল একটি ইসলামি আন্দোলন।’
এখানেই শেষ নয়, মহম্মদ ইউনূস আরও বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে সমস্যা তৈরি করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তদারকি সরকার প্রধান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অস্থিরতা ও তরুণদের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চলছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইসলামি আন্দোলনের ভূয়ো খবরের দিকে ইঙ্গিত করে ড. ইউনূস বলেন, এই সব খবরের সঙ্গে তালিবান প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত খবর যুক্ত হয়েছে। এমনকী তারা বলেছে, আমি তালিবান। আমার দাঁড়ি আমি বাড়িতে রেখে এসেছি।’
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট যে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ইউনূস সেটা বুঝিয়ে দিলেন। সেটাই যদিও হবে, তাহলে ইউনূস কেনই বা ইলিশ, আম, চিনিগুঁড়া চাল পাঠালেন? এটা কি জুতো মেরে গোরু দান? এখানেই শেষ নয়, ইউনূস কাটা কাটা কথায় জানিয়েছেন, ভারত বাংলাদেশের এমন এক নেত্রীকে আশ্রয় দিয়েছেন, যাঁর বিরুদ্ধে গণ্ডা গণ্ডা ছাত্র খুনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি সব সমস্যার জন্ম দিয়েছেন। ইউনূসের বক্তব্যে বার বার এসেছে ভারতের সংবাদপত্রে ‘ভূয়ো খবর’ প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ভারতীয় মিডিয়া অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বক্তব্য শুধু ইউনূসের একার নয়, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার খবর করে চলেছে।
কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ইউনূস কেন হঠাৎ খাপ্পা হয়ে গেলেন। আসলে সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউনূসের মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। দ্বিতীয় কারণ, তিনি সরাসরি ভারতকে আক্রমণ করে বোঝাতে চাইছেন যে বাংলাদেশ এখন ভারত-মুক্ত। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক সমীকরণ। বাংলাদেশ একা নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় অনেকেই নতুন আঞ্চলিক সমীকরণের দিকে এগোতে চাইছে।












Discussion about this post