বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির একটা চূড়ান্ত দফারফা হবে। তার বড় প্রমাণ তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের আমেরিকা সফর। তিনি নিয়ে গিয়েছেন জামায়াত, এনসিপি, এবং বিএনপির দুইজন নেতা করে ছজনকে। আবার বিভিন্ন দফতরের থেকে আমলাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন। এই সফর নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই প্রশ্নগুলির গত প্রায় এক – কী দরকার ছিল এত বড় একটা দল নিয়ে আমেরিকা যাওয়ার? যে দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারে চলে গিয়েছে, সেই দেশের কী এত খরচ করে আমেরিকা যাওয়া মানায়? আর যে উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি আমেরিকা গিয়েছেন, অর্থাৎ ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করা, সেটা তো হল না। উলটে ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউজ ইউনূসকে পাত্তা দিচ্ছে না। কিন্তু বিষয়টা এত সরল করে দেখলে হবে না।
আমেরিকা থেকে কিন্তু একের পর এক সুখবর দিচ্ছেন তদারকি সরকার প্রধান। অনেক আগেই তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ সফরকালে তিনি আরও একবার সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দাবি তোলা হয়েছিল জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন করা হবে। সেই আশ্বাসও ইউনূস দিয়েছেন। বিএনপি চায় না জুলাই সনদের বাস্তবায়ন। কিন্তু জামায়াত এবং এনসিপি প্রথম থেকে জুলাই সনদ কার্যকর করার কথা বলে এসেছে। তদারকি সরকার প্রধান সেই দাবিকে মান্যতা দিতে চলেছেন। জামায়াত আরও একটি কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছে, ডিসেম্বরে ভোট হলেও তাদের আপত্তি নেই। নাগরিক সমাজেরও একই দাবি।
আসলে জাতিসঙ্ঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সঙ্গে ইউনূসের সফরসঙ্গীদের হিসেব মেলাতে গেলে সব হিসেব গুলিয়ে যাবে। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে তিনি সেখানে গিয়ে নানান গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে একটা সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা করছেন। একটা ঐকমত্যে নিয়ে আসার। এটা পর্দার সামনের দৃশ্য পর্দার পিছনেও যে ইউনূস অনেকের সঙ্গে কথা বলছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
একটা আশঙ্কা ছিল বিএনপিকে নিয়ে। আশঙ্কা ছিল ভোটে তারা কারচুপি করবে। তবে সে সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। যদিও ভোটের পর বিএনপি কারচুপির অভিযোগ তুলে গলা ফাটাবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর তারা কারচুপির অভিযোগ তুলে মরা কান্না কাঁদছিল। বাংলাদেশ ভোটে আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে। থাকবে সিসিটিভি। কড়া নজরদারিতে ভোট হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত দেশের রাজনৈতিকমহল। নির্বাচনী খরচ বহন করবে ইউএনডিপি।
এদিকে বাংলাদেশের একটি পত্রিকার দাবি, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বিশ্বনেতারা। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে হোটেল স্যুইটে একাধিক আন্তর্জাতিক নেতা একত্রিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি এই সমর্থন জানান। তারা বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় নেতৃত্ব দেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রাইবারেগা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, জর্জিয়ার প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, বেশ কয়েকজন প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন উপ-সভাপতি ও এনজিআইসি-এর কো-চেয়ার ইসমাইল সেরাজেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং আইএইএ ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির সিনিয়র প্রতিনিধিরা।












Discussion about this post